পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন লেগে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে আজ বুধবার আগুনে অন্তত ১৪ নবজাতকের প্রাণ গেছে। 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যম এই ট্র্যাজেডির জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করেছে।

সম্প্রচারমাধ্যম জিও টিভি জানিয়েছে, সকাল ৭টার দিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমস) হাসপাতালের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও টিভির তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১৫। এই তথ্যের বরাতে রয়টার্স এর আগে ১৫ নবজাতকের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। 

হাসপাতালের বাইরে সকাল থেকেই অনেক অ্যাম্বুলেন্স ভিড় করে ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে সন্তান হারানো অভিভাবক জাভেরিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিন। তিনি আর্তনাদ করে বলছিলেন, আমি বিচার চাই।

গত কয়েক বছরে হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় দুর্ঘটনা এটি। পাকিস্তানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ভর্তুকি থাকলেও হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিত্যসঙ্গী। সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা করে থাকে বিভিন্ন তদারকি সংস্থা।

জিও টিভি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ওয়ার্ডে মোট ১৬ নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ডটি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে।

সন্তান হারানো আরেক অভিভাবক মুদাসির বলেন, ওয়ার্ডের একটি দরজা ছাড়া সবকটি বন্ধ ছিল এবং সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

এই ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিআইএমএস ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান একটি সরকারি হাসপাতাল। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও এই হাসপাতালে সাময়িকভাবে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।