জয়া ও চূর্ণীর অভিনয়, অভিব্যক্তি, নীরবতা, বেদনার ভাষা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’
প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন প্রদর্শিত হওয়ার পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসেছে জয়া আহসান অভিনীত ভারতীয় বাংলা সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হইচইয়ে মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত এই সিনেমা।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ২০২৩ সালের সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিক্যুয়েল। নতুন এই কিস্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশীষ রায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ অনেকে।
সিনেমায় ‘মেঘনা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। তবে আগের গল্পের তুলনায় এবার মেঘনার জীবনের বাস্তবতা ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে, সংসারে নিজের জায়গাটিও করে নিয়েছে আরও দৃঢ়।
চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরে জয়া আহসান তার অভিনয়ে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। মেঘনা কখনো ভীষণ অসহায়, আবার অস্তিত্ব রক্ষায় কখনো সে ভীষণ কঠিন। ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয় তাকে যেমন দুর্বল করে, তেমনি সেই ভয়ই তাকে তীব্র ও প্রতিবাদী করে তোলে। ফলে চরিত্রটি একরৈখিক থাকেনি। তার মধ্যে যেমন গভীর ভালোবাসা আছে, তেমনি আছে ঈর্ষা, ভয়, অভিমান ও আকুতি। এখানেই জয়া আহসান অভিনীত মেঘনা চরিত্রটি আলাদা হয়ে উঠেছে।
সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো শুভ্রা চরিত্রে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসানের যুগলবন্দী অভিনয়। একজন সুমনের অতীত, অন্যজন বর্তমান। কিন্তু দুজনের ভেতরেই একই পুরুষকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভালোবাসা, আঘাত ও অপূর্ণতার হাহাকার রয়েছে। তাই তাদের দ্বন্দ্ব কেবল দুই নারীর দ্বন্দ্ব নয়; এটি যেন একই জীবনের দুই ভিন্ন সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাওয়া। এই দুই অভিনয়শিল্পীর অভিব্যক্তি, নীরবতা আর চোখের ভাষা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র গল্পে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি উঠে এসেছে অপরাধবোধ, ভালোবাসা, অনিশ্চয়তা ও অতীতের প্রভাব। মেঘনার জীবনে পুরোনো সম্পর্কের ছায়া যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বর্তমানকে টিকিয়ে রাখার মরিয়া লড়াই। ফলে জয়ার চরিত্রটি এবারও আবেগ ও মনস্তত্ত্বের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়া আহসানের চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, তিনি চরিত্রের ভয় কিংবা কষ্টকে খুব বড় করে প্রকাশ করেননি। বরং চোখের দৃষ্টি, থেমে যাওয়া কথা, মুখের অভিব্যক্তি আর আচরণের ছোট ছোট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চরিত্রটির ভেতরের অস্থিরতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। মেঘনার ভেঙে পড়ার দৃশ্যগুলোতে শুধু অভিনয় করেননি, বরং ভেতর থেকে তা অনুভব করিয়েছেন জয়া।