ঝুঁকি বাড়ছে বাব আল-মান্দেবে, জ্বালানি তেলের বিকল্প বাজারের খোঁজে বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এ কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নবাগত চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বিপিসি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং খুব শিগগির নতুন কোনো উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বিপিসি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান বলেন, 'অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি বিকল্প উৎসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি।'

গত মার্চে মধ্যপ্রাচ্য সংকট তীব্র হওয়ার পর থেকেই বিপিসি বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করে বলে জানান তিনি।

বিভিন্ন দেশের অপরিশোধিত তেল পরীক্ষার পর দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড ৪টি দেশের তেল শোধন প্রক্রিয়ার উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশগুলো হলো—নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়া।

রিফাইনারিটি নাইজেরিয়ার 'বনি ক্রুড', মালয়েশিয়ার 'মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড', নরওয়ের 'আলভহেইম ব্লেন্ড' এবং আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করেছে।

এতে দেখা যায়, বিদ্যমান শোধনাগার সুবিধা ব্যবহার করেই এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা সম্ভব।

ইস্টার্ণ রিফাইনারি এপ্রিলে পরীক্ষার প্রতিবেদন বিপিসির কাছে জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইস্টার্ণ রিফাইনারির বার্ষিক আনুমানিক ১৪-১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই রিফাইনারিটি বর্তমানে সৌদি আরব থেকে 'অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড' এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে 'মুরবান ক্রুড' শোধন করে থাকে। এই দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল থেকে ডিজেল, বিটুমিন ও পেট্রোলসহ ১৩ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি হয়।

বর্তমানে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে জানিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না।

আরও কিছু আমদানির ক্রয় আদেশও নিশ্চিত করা আছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে কয়েক দফা দরপত্রের পর এলপিজি আমদানির একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিপিসি। এই চালানের গ্যাস চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে পৌঁছাবে বলে জানান চেয়ারম্যান।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো বাধ্য হচ্ছে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে। এ অবস্থায় অপরিশোধিত তেলের উৎস বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী মাদার ট্যাংকার 'এমটি নিনিমিয়া' সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালি এবং উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে গত শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

এই দীর্ঘ যাত্রায় জাহাজটির সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন এবং অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

ট্যাংকারটির স্থানীয় এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সুয়েজ খালের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি যদি বাব আল-মান্দেব ও ভারত মহাসাগর হয়ে আসতে পারত, তবে মাত্র ১৩-১৫ দিনের মধ্যেই চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারত।