নৌযানের সংঘর্ষের পর একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করল ভারত-পাকিস্তান
উত্তর আরব সাগরে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনার পর একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।
আজ বৃহস্পতিবার দুই দেশের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণের’ বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো আপত্তি জানাতে দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করা হয়েছে।
ভারতের ভাষ্য, ওই আচরণের কারণে ভারতীয় একটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে আনুষ্ঠানিকভাবে তলব করে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি নৌযানের ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ বিষয়ে অসন্তোষ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের ওই ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল।
ভারতীয় সূত্রের দাবি, পাকিস্তানি একটি নৌযান দ্রুতগতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটির দিকে এগিয়ে আসে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
তবে সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত।
ঘটনার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও একই ধরনের উদ্যোগ এলো।
মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর আচরণ ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া, কৌশলগত তৎপরতা ও সেনা চলাচল নিয়ে ১৯৯১ সালের একটি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
ওই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌযান ও সাবমেরিনের মধ্যে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলেছে, দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া পাকিস্তানি একটি নৌযানের ‘বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি গিয়ে আগ্রাসী কৌশলগত গতিবিধি’ চালিয়েছিল ভারতীয় নৌযানটি। ভারতের এই কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি দেশটির সরকারের কাছে জানাতে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে বলা হয়েছে।
এক বছর পর আবারও দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা
গত বছর চার দিনের তীব্র সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এটিই প্রথম প্রকাশ্য সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। ওই সংঘাত দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশ তিনটি বড় যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে দুটি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কাশ্মীর। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে সশস্ত্র সংঘর্ষও হয়েছে।
২০১৯ সালে কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার পর দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে আনে। বর্তমানে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে একে অপরের দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূতের পরিবর্তে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’।
সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষের ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত পাকিস্তানের সামরিক ইউনিটগুলোকে বিদ্যমান চুক্তি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আবার না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।


