লোকশিল্পী থেকে হালফ্যাশনের ফার্স্ট লেডি, পেং লিউয়ানের অজানা অধ্যায়

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বাণিজ্যযুদ্ধ, প্রযুক্তির লড়াই ও তাইওয়ানসহ নানা ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই অলিখিত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যদিও এই সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিলেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, তবে কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আলাদা করে নজর কেড়েছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে তার সাক্ষাৎ, ইংরেজিতে কথোপকথন, তরুণদের গান শোনা ও পোশাকের ধরন—সব মিলিয়ে আবারও সামনে এসেছে চীনের এই সাবেক সামরিক সংগীতশিল্পীর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় জীবন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পেং লিউয়ানকে চীনের ‘সফট পাওয়ার’-এর গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেং লিউয়ানের শিল্পীজীবন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিচয় ও বিয়ে, বৈশ্বিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা ও ফ্যাশন আইকন হিসেবে উত্থানের নানা দিক।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে দেশে ফেরার সময় এয়ার চায়নার উড়োজাহাজে ওঠার আগে হাত নাড়ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ান। ছবি: এএফপি

শানডংয়ের কিশোরী থেকে চীনের জাতীয় তারকা

পেং লিউয়ানের জন্ম ১৯৬২ সালে চীনের শানডং প্রদেশে। পরিবারেও ছিল শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ। মা ছিলেন চীনা অপেরা শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পেংয়ের।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি শানডং ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ভর্তি হন। সেখানে তিনি চীনা লোকগানের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। সুরেলা কণ্ঠ তাকে দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

১৯৮০ সালে পেং লিউয়ান পিপলস লিবারেশন আর্মিতে (পিএলএ) যোগ দেন এবং সেনাবাহিনীর সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। পিএলএ মিউজিক ব্যান্ডে কাজ করার সময় দেশাত্মবোধক ও লোকগান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক উত্থানের অনেক আগে থেকেই পেং মহাচীনে এক পরিচিত মুখ।

শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ান। ছবি: সিনহুয়ার সৌজন্যে

১৯৮০-এর দশকে পেং মহাপ্রাচীরের দেশটিতে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যে, পরিচিতদের মধ্যে একটি রসিকতা প্রচলিত ছিল—‘শি জিনপিং কে? তিনি পেং লিউয়ানের স্বামী।’

১৯৮৬ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে পেংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের পরিচয়। তখন শি ছিলেন ফুজিয়ান প্রদেশের শিয়ামেন শহরের উপমেয়র। এর আগেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে শির।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সাক্ষাতে পেং ‘ঢিলেঢালা সামরিক প্যান্ট’ পরেছিলেন—শি তার চেহারা ও খ্যাতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েই তাকে পছন্দ করছেন কি না, তা যাচাই করতে। পরের বছর ১৯৮৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। ১৯৯২ সালে তাদের একমাত্র মেয়ে শি মিংজে জন্মগ্রহণ করেন।

শি-কন্যার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই কঠোরভাবে আড়ালে রাখা হয়েছে। ২০১০ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০১২ সালে শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এই দম্পতির পরিচিতির ভারসাম্য বদলে যায়। পরের বছর শি চীনের প্রেসিডেন্ট হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পেং লিউয়ানের পরিচিতি নতুন মাত্রা পায়।

স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শনের সময় হোপ চাইনিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সংগীত উপভোগ করছেন চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান (ডানে তৃতীয়) ও যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প (ডানে দ্বিতীয়)। ছবি: রয়টার্স

ফার্স্ট লেডি হিসেবে ব্যতিক্রমী ভূমিকা

চীনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব বেশি দেখা যায় না। পেং লিউয়ান সেই জায়গায় ব্যতিক্রম।

রয়টার্স বলছে, পেং লিউয়ান ওয়াশিংটন সফরে মেলানিয়ার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলেছেন এবং শিশু-কিশোরদের একটি সংগীত দলের পরিবেশনার সময় তাদের সঙ্গে গানও গেয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এসবের ভিডিও প্রকাশ করে পেংয়ের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

চীনা কূটনীতিতে পেং লিউয়ানের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কঠোর ও আনুষ্ঠানিক ভাবমূর্তির বাইরে তুলনামূলক মানবিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সামনে তুলে ধরেছেন।

চীনা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সামনে সংগীত পরিবেশন করছেন পেং লিউয়ান। ছবি: সংগৃহীত

বেইজিংভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার ভূরাজনীতি বিশ্লেষক জো মাজুর রয়টার্সকে বলেন, পেং চীনের কঠোর কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতে ‘মানবিক মুখ’ যোগ করতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

পেং লিউয়ানের ভূমিকা শুধু সাংস্কৃতিক কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে যক্ষ্মা ও এইচআইভি (এইডস) বিষয়ে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এ ছাড়া, নারী ও মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে কাজের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘স্পেশাল এনভয় ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব গার্লস অ্যান্ড উইমেন্স এডুকেশন’ হিসেবে নিয়োগ দেয়।

চীনে পেং লিউয়ান জনস্বাস্থ্য ও ধূমপানবিরোধী প্রচারেও যুক্ত ছিলেন। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার প্রকাশ্য ভূমিকার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণের বিষয়গুলোও রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে হোয়াইট হাউসে নামার সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিউয়ান। ছবি: রয়টার্স

ফ্যাশন আইকন থেকে ‘মা পেং’

পেং লিউয়ানের আন্তর্জাতিক পরিচিতির অন্যতম বড় অংশ তার পোশাক ও ব্যক্তিগত স্টাইল। ২০১৩ সালে শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে গেলে রাশিয়ায় পেংয়ের পোশাক ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তার পরা কোট ও নীল স্কার্ফ চীনের অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম তাওবাওয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পোশাকের সঙ্গে যুক্ত ছিল চীনা ডিজাইনার মা কে-এর নাম।

পেংয়ের স্টাইল নিয়ে সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও ফ্রান্সের সাবেক ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনিরও তুলনা করা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিউয়ান ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ফ্যাশন। ছবি: রয়টার্স

২০১৩ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন পেং লিউয়ানকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তুলে ধরে।

চীনে পেং লিউয়ানকে কখনো কখনো ‘মা পেং’ বলা হয়। বিপরীতে, শি জিনপিংকে ‘শি দাদা’—অর্থাৎ ‘বাবা শি’ বা ‘চাচা শি’ নামে অভিহিত করা হয়।

এই ধরনের সম্বোধন পেংয়ের জনপ্রিয় ভাবমূর্তির দিকটি তুলে ধরে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষজ্ঞের মত: চীনা জনগণের একটি অংশের কাছে পেংকে জাতীয় পরিবারের ‘মা’ হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে।

চাইনিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সংগীত উপভোগের সময় করতালি দিচ্ছেন পেং লিউয়ান। ছবি: এএফপি

চীনের ‘সফট পাওয়ার’-এর দৃশ্যমান মুখ

শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পেং লিউয়ানের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চীনের একটি অপেক্ষাকৃত কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

ওয়াশিংটনে পেংয়ের কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সফর। সেখানে দুই ফার্স্ট লেডি এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতির নানান নিদর্শন ঘুরে ঘুরে দেখেন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই ফার্স্ট লেডির এই সাক্ষাৎ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির প্রতীকী প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

২০১৭ সালে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময় মেলানিয়া ও পেংয়ের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। এবারের সাক্ষাৎ ছিল প্রায় এক দশক পর।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিউয়ান (ডান দিক থেকে পঞ্চম) চীনের তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশি নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। ছবি: চায়না মিডিয়া গ্রুপের সৌজন্যে

বিদেশে পেং লিউয়ান যতটা দৃশ্যমান, চীনের ভেতর তার ব্যক্তিগত জীবন ও ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা ততটা সহজ নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেং লিউয়ানের সফরসূচি ও পোশাক নিয়ে আলোচনা বেশ সীমিত। এমনকি, জনপ্রিয় চীনা প্ল্যাটফর্ম রেড নোটে তার ফ্যাশন ও ইংরেজি বলার দক্ষতা নিয়ে অনুসন্ধান করেও উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি।

চীনের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, দেশটির কমিউনিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুংয়ের স্ত্রী জিয়াং চিংয়ের রাজনৈতিক ভূমিকার অভিজ্ঞতার পর চীনা নেতাদের স্ত্রীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবেই সীমিত।

চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় মাও-এর স্ত্রী ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রে। ১৯৮১ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে সেই সাজা স্থগিত করা হয়।

হোয়াইট হাউসের রেড রুমে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানের সঙ্গে চা-চক্রে অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

শিল্পী, সেনা কর্মকর্তা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের মানুষ

পেং লিউয়ানের পারিবারিক ইতিহাসও বেশ জটিল। সংবাদ প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, পেংয়ের বাবা একসময় ‘কাউন্টার-রেভ্যুলেশনারি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছিলেন। পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাইওয়ানের সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন বলে এমন দাবি করা হয়েছিল।

তবে এসব বাধা পেংয়ের ক্যারিয়ার থামাতে পারেনি। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে সংগীত শিক্ষা শুরু করেন এবং পরে পিএলএর সংগীতশিল্পী হিসেবে জাতীয় তারকা হয়ে ওঠেন।

পেংকে শুধু সংগীতশিল্পী বা ফার্স্ট লেডি হিসেবে দেখলে তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। তিনি দীর্ঘদিন পিএলএর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় যুক্ত ছিলেন এবং সামরিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও অধিকার করেছেন।

চীনের অনলাইন পোর্টাল চাইনা ফাইলের প্রতিবেদনে পেং লিউয়ানকে পিএলএ-র একজন মেজর জেনারেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়—পেংয়ের শিল্পীজীবন, সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ও শি পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয় চীনের ক্ষমতার কাঠামোকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ান। ছবি: রয়টার্স

পেং লিউয়ানের গল্প তাই কেবল একজন সংগীতশিল্পীর ফার্স্ট লেডি হয়ে ওঠার গল্প নয়। তার জীবনে একইসঙ্গে রয়েছে সামরিক সংগীতশিল্পীর পরিচয়, জাতীয় তারকা হিসেবে জনপ্রিয়তা, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, জনকল্যাণমূলক কাজ, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও ফ্যাশন জগতের প্রভাব।

চীনা ফার্স্ট লেডির উত্থানকে ঘিরে চাইনা ফাইলের প্রতিবেদনে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পেংয়ের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তার প্রকাশ্য আকর্ষণীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তির পাশাপাশি চীনের রাজনীতি, সামরিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পাঙ্গনের আন্তঃসম্পর্কও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন পেংয়ের বর্তমান ভূমিকার ভিন্ন দিক সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের মতো কঠিন কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কোমল বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

ফোক ও সোপ্রানো সংগীতশিল্পী হিসেবে যার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, সেই পেং লিউয়ান এখন শুধু চীনের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী নন। বলাবাহুল্য তিনি চীনের সাংস্কৃতিক কূটনীতি, জনকল্যাণমূলক প্রচারণা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির ভাবমূর্তি তুলে ধরার অন্যতম দৃশ্যমান মুখ।