আত্মবিশ্বাসী মানুষ কি বেশি সুখী হন, যা বলছে গবেষণা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আত্মবিশ্বাসী মানুষকে আমরা সাধারণত সফল ও সুখী মানুষ হিসেবেই দেখি। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আসলেই কি সুখের কোনো সম্পর্ক আছে?

গবেষণা বলছে, নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা থাকলে মানুষ সাধারণত জীবন নিয়ে বেশি সন্তুষ্ট ও সুখী বোধ করতে পারেন।

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ২০০ শিক্ষার্থীর ওপর করা একটি গবেষণায় আত্মমর্যাদাবোধের সঙ্গে সুখের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের প্রতি ভালো ধারণা যত বাড়ে, সুখের অনুভূতিও তত বাড়তে পারে।

বিবিসি বলছে, আয়ারল্যান্ডে করা আরেকটি ছোট গবেষণাতেও নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার সঙ্গে সুখ ও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

হাফিংটনপোস্টের আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আত্মমর্যাদা ও সুখ নিয়ে আলোচিত গবেষণাগুলোর একটি করেছেন মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রয় বাউমিস্টার। তার গবেষণাপত্রে ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১টি দেশের ৩১ হাজার কলেজ শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, যাদের আত্মমর্যাদাবোধ বেশি, তারা সাধারণত নিজেদের জীবন নিয়েও বেশি সন্তুষ্ট।

Confident illustration Images - Free Download on Magnific (formerly Freepik)

কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলানো

নিজের ওপর বিশ্বাস কম থাকলে সামান্য সমালোচনাও অনেক সময় বড় মনে হতে পারে। ব্যর্থতা বা খারাপ কোনো অভিজ্ঞতার পর হতাশা, উদ্বেগ কিংবা নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যানকে মানুষ সব সময় নিজের অযোগ্যতা হিসেবে দেখেন না। বরং এটিকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখতে পারেন।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক জোনাথন ব্রাউনের গবেষণাতেও এমন বিষয় উঠে এসেছে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ ব্যর্থতার পরও নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা ধরে রাখতে পারেন। ফলে কঠিন সময় পার করে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

Self confidence concept illustration | Premium Vector

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কেরও যোগ রয়েছে।

নিজের ওপর আস্থা কম থাকলে অনেকে নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। কেউ কেউ অন্যদের এড়িয়ে চলেন বা একা থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসী মানুষ সাধারণত নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে এবং বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেশি আগ্রহী হন। মূলত নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা থাকায় তারা অন্যদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী জীবনের জন্য পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সামাজিক সম্পর্ক ভালো থাকাটা সুখে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

8,500+ Quiet Confidence Illustrations - iStock

অন্যের প্রশংসার ওপর কম নির্ভরতা

আত্মবিশ্বাসী মানুষের নিজের সম্পর্কে সাধারণত ভালো ধারণা থাকে। তাই অন্যরা প্রশংসা করল কি না, কিংবা সবাই তাকে পছন্দ করল কি না—এসব বিষয় তাদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না।

অন্যদিকে, সব সময় অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে অসুখী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। কে বেশি সফল, কার বেশি টাকা, কে কোথায় পৌঁছে গেছে—এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবলে নিজের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

অবশ্য আত্মবিশ্বাসী মানুষও অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন। তবে সেই তুলনা সব সময় নিজেকে ছোট করার জন্য নয়। বরং অন্যের কাছ থেকে শেখা বা নিজের বিষয়ে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা হিসেবে তারা সেটিকে কাজে লাগান।

A woman with a kind heart, feeling self-love, bliss, harmony, positive  emotions. Happy calm peaceful girl. Caring, humanity, self-help and peace  concept. Colored flat vector illustration 33330667 Vector Art at Vecteezy

আত্মবিশ্বাস থাকলেই কি সুখী হওয়া যায়

না, আত্মবিশ্বাসী মানুষও ব্যর্থ হন, মন খারাপ করেন, উদ্বিগ্ন হন ও জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। তাই আত্মবিশ্বাস মানে এই নয় যে, একজন মানুষ সব সময় হাসিখুশি থাকবেন।

তবে নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলানো কিছুটা সহজ হয়। ব্যর্থতাকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখা, নিজের ভালো দিকগুলো মনে রাখা এবং অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়গুলো জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই আত্মবিশ্বাস কখনো সুখের নিশ্চয়তা নয়। তবে এটি ভালো থাকা ও জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজের প্রতি বিশ্বাস, অন্যদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে জীবন সুন্দর হয়।