অন্তরে অচিন পাখি
‘অন্তরে অচিন পাখি’ লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীনের জীবন, সংগীতসাধনা এবং লালনগীতিতে তার অবদান নিয়ে ফাহিম সব্যসাচীর লেখা একটি জীবনালেখ্য গ্রন্থ। এটি প্রকাশ করেছে জোড়া শালিক।
ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।
প্রাথমিক জীবনে ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের তালিম নেন ফরিদা পারভীন। তারপর সংগীত প্রিয় পরিবারের প্রেরণায় নজরুলসংগীত শিল্পী থেকে কীভাবে তিনি লালনসংগীতের কিংবদন্তি হয়ে উঠলেন, সেই পথের নানা জানা-অজানা গল্প উঠে এসেছে বইটিতে।
ফরিদা পারভীনের গান বহু মানুষকে মুগ্ধ করে। কিন্তু তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তেমন কোনো প্রকাশনা নেই। ফলে এই কীর্তিমান শিল্পীর দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা গল্প, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হবে এই বইয়ের মাধ্যমে।
বইটির লেখক ফরিদা পারভীনের কাছ থেকে গল্প শুনেছেন, স্মৃতি সংগ্রহ করেছেন, গানের পেছনের গল্পগুলো খুঁজে এনেছেন। ফলে বইটি শুধু একজন শিল্পীর জীবনী হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে তার সময়, সংগীতসাধনা ও সাংস্কৃতিক পরিসরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটি স্মৃতি উঠে এসেছে বইটিতে। সেই সময় ফরিদা পারভীনের একটি হারমোনিয়াম ছিল। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে একদিন তার বাবা সেটি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন, যাতে বাড়িতে কেউ এলে খুঁজে না পায়। মেয়েকে তিনি বলেছিলেন, ‘মা, দেশ স্বাধীন হলে এটা আবার বের করে দেবো।’
কথাটি খুব সাধারণ। কিন্তু এর ভেতরে একাত্তরের ভয়, অনিশ্চয়তা ও স্বাধীনতার প্রত্যাশা একসঙ্গে ধরা পড়ে। একটি হারমোনিয়াম মাটির নিচে লুকিয়ে রাখার গল্প যেন আমাদের সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের ইতিহাসেরও একটি ছোট অথচ গভীর প্রতীক। লেখক এমন গল্পই যত্নের সঙ্গে তুলে এনেছেন।
ফরিদা পারভীন ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি জীবিত থাকতেই এই বইয়ের কাজ শুরু হলেও তিনি প্রকাশিত বইটি দেখে যেতে পারেননি। ফলে তার জন্ম ও শৈশবের গল্প লিখতে লিখতেই লেখককে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর শোকাবহ সময়টিও ধারণ করতে হয়েছে।