টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার আরেক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা সানিয়াত খান বাপ্পা (৩০), শহরের কাগমারা এলাকার বাসিন্দা আজাদ (২৫) এবং সদর উপজেলার শ্রীফলিয়াটা গ্রামের শাজাহান মিয়া (৩১)। তারা সবাই পলাতক।
সানিয়াত খান বাপ্পা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে এবং একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোটভাই।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার কাঠোয়া যোগিনী গ্রামের সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৩৪), ছিটকিবাড়ী গ্রামের রুজভেল্ট ওরফে ইমন (২৬) ও শহরের কাগমারা এলাকার শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫)। তাদের মধ্যে ইমন ও শফিক পলাতক।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাইদুর রহমান স্বপন জানান, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় হাঁটতে বের হন। বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি জানান, এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।
তিনি আরও জানান, পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
এরপর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ বিচারক রায় ঘোষণা করেন।