ভাত চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

খুলনা শহরে চুরির অভিযোগে মো. আজমুল হোসেনকে (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পিরোজপুর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

গ্রেপ্তার হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার ভোররাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এসআরবি।

এসআরবি আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৬, খুলনা ও এসআরবি-৮, বরিশালের যৌথ দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৬-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয় বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রিফাতের নাম এজাহারে নেই। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আজমুল নিহত হওয়ার খবর জানতে পারে পুলিশ। আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় সলুয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. কুতুব উদ্দিন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা (খানজাহান আলী) হলের বিপরীত পাশের গলিতে পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি মেসে ভাড়া থাকতেন আজমল। ওই ভবনটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকেন।

পুলিশ জানায়, আজমলকে প্রথমে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাত দেড়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ ও  অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।