রংপুরে ৪ খুন: গ্রেপ্তার ২ যুবকের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি
রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবকের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি।
আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রংপুর মহানগর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে তাদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই অভিযুক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। আজ দুপুরে পরীক্ষার ফলাফল ও চিকিৎসকের মতামত ডিবি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আজ দুপুরে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পেয়েছি। তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসক মতামত দিয়েছেন। এখন মামলা কোনদিকে যাবে সেটা বলতে পারছি না।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর দাসপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
এর আগের দিন ২১ আগস্ট সকালে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ভোরে একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, মাদক সেবনের পর শরীরে কত দিন পর্যন্ত এর আলামত থাকে জানতে চাইলে রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ডা. রাশেদুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, সাধারণত নিয়মিত বা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনকারীদের ক্ষেত্রে মাদক সেবনের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রস্রাব পরীক্ষা করা হলে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। এ সময়ের পর ডোপ টেস্টে মাদক শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত বা মাঝে মাঝে মাদক সেবনকারীদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে মাদকের আলামত সর্বোচ্চ দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত থাকে।
এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তারের আট দিন পর গতকাল তাদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
নোট: রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেদনটি আপডেট করে রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ডা. রাশেদুল হকের বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে।