মালয়েশিয়া পরীক্ষায় বাংলাদেশের একাদশে যত সম্ভাবনা

স্পোর্টস ডেস্ক

সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে শুরু করেছিলেন থমাস ডুলি। কিন্তু সেই ম্যাচের একাদশই এবার আর ধরে রাখার সুযোগ নেই। গোল করে জয়ের নায়ক তপু বর্মন নেই, নেই প্রথম গোলের কারিগর শেখ মোরসালিনও। তার ওপর নতুন মুখের ভিড়, আক্রমণে নেই স্বীকৃত কোনো ‘নাম্বার নাইন’, সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ডুলির একাদশ যেন অনুমানের চেয়েও বড় ধাঁধা।

সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি গোলই করেছিলেন তপু। প্রথম গোলটির আগে তার উদ্দেশে বল বাড়িয়েছিলেন মোরসালিন। ফলে ডুলির প্রথম ম্যাচে যে দুই খেলোয়াড় সরাসরি ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তাদের দুজনকেই পাচ্ছেন না জার্মান-আমেরিকান কোচ।

তবে নতুন বিকল্পও কম নেই ডুলির হাতে। দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য রাকিব হোসেন ফিরেছেন দলে। জাপানি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড শুকি ইতুফুসা এবং ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফারহান আলী ওয়াহিদের বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকও হতে পারে। রক্ষণে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ডুলির নজর কাড়া জিদান ইউসুফও ঢুকে পড়েছেন হিসাবের মধ্যে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য আক্রমণভাগে। বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত কোনো ‘নাম্বার নাইন’ নেই। ডুলির পূর্বসূরি হাভিয়ের কাবরেরার সময়ও যেমন মিথ্যা নয় ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি মোরসালিন, রাকিব হোসেন এমনকি জামাল ভূঁইয়াকেও এই ভূমিকায় দেখা গেছে। ডুলি নিজেও এখনো নির্দিষ্ট কোনো কৌশলকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ফলে তার আক্রমণভাগ কেমন হবে, সেটিই একাদশ অনুমানের সবচেয়ে বড় ধাঁধা।

রক্ষণভাগে অবশ্য কিছুটা নিশ্চয়তা আছে। দুই প্রান্তে জায়ান আহমেদ ও সাদ উদ্দিনের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তারিক কাজীর সঙ্গী হিসেবে সেন্টারব্যাকে কে থাকবেন, সেটিই প্রশ্ন। শাকিল আহাদ তপু, মঞ্জুরুর রহমান মানিক কিংবা জিদান, তিনজনের যেকোনো একজনকে বেছে নিতে পারেন ডুলি।

তবে জিদানের মতো নতুন কাউকে সরাসরি প্রথম একাদশে জায়গা দেবেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়। তার অভিষেক হলে শুরু থেকে না খেলিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি।

মাঝমাঠে অবশ্য একটি জায়গা নিয়ে সংশয় তুলনামূলক কম। হামজা চৌধুরীই থাকবেন দলের মূল ভরসা। বল কেড়ে নেওয়া, আক্রমণ গড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মাঝমাঠের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, সবকিছুতেই তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ। তার পাশে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক ভূমিকায় থাকতে পারেন সোহেল রানা সিনিয়র কিংবা মোহাম্মদ হৃদয়। প্রয়োজন হলে তারা সেন্টারব্যাকদের সামনে অবস্থান নিয়ে রক্ষণ সামলাতে পারেন, আবার আক্রমণের সময় রক্ষণভাগের মাঝে নেমে ফুলব্যাকদেরও সামনে ওঠার সুযোগ করে দিতে পারেন।

আক্রমণভাগের হিসাবটা সেখানেই আরও জটিল। স্বীকৃত গোলস্কোরার কিংবা পরীক্ষিত স্কোরার না থাকায় বাংলাদেশের বড় ভরসা হতে পারে দুই প্রান্তের খেলোয়াড়দের ওপর। উইঙ্গার ও ওভারল্যাপ করা ফুলব্যাকদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করে সুযোগ সৃষ্টি করাই হতে পারে ডুলির অন্যতম পথ।

প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে। তাই ম্যাচের শুরুতে ডুলি হয়তো একটু সতর্ক কৌশলই বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিন সেন্টারব্যাক নিয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ। তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু ও জিদানকে নিয়ে রক্ষণভাগ সাজিয়ে মাঝমাঠে হামজা, সোহেল রানা, জামাল ভূঁইয়া ও শামিত শোমকে রেখে সামনে রাকিবকে একা খেলানো হতে পারে একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা।

এতে নতুন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের বেঞ্চে রেখে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগও থাকবে ডুলির হাতে। অর্থাৎ শুরুতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে পরে গতি ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে বাংলাদেশের।

অন্যদিকে ডুলি যদি শুরু থেকেই একটু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চান কিংবা ম্যাচের কোনো পর্যায়ে গোলের জন্য চাপ বাড়াতে হয়, তখন বাম দিক দিয়ে আক্রমণ বাড়ানোর বেশ কিছু বিকল্প তার হাতে আছে। ফাহিমদুল ইসলাম, ফারহান ও ইতুফুসার মতো খেলোয়াড়রা গতি ও বল পায়ে দক্ষতা দিয়ে বাম প্রান্তে বিভিন্ন সমন্বয় তৈরি করতে পারেন।

গোলরক্ষকের জায়গাতেও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সান মারিনোর বিপক্ষে শুরু করেছিলেন মিতুল মারমা। তবে নিকোলা জাকোপেত্তির সমতাসূচক গোলটি কাছের পোস্ট দিয়ে ঠেকাতে পারেননি তিনি। ফলে এবার তার জায়গা নিশ্চিত নয়। পরিবর্তন আনলে সুজন হোসেনের চেয়ে মেহেদী হাসান শ্রাবণই হতে পারেন সম্ভাব্য বিকল্প।