জাতিসংঘের অধিবেশন

এবারো ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মাহমুদ আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কোনো কর্মকর্তাকে ভিসা দেবে না।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছে,  যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে এবং এমন সব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে যা শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, মার্কিন এই ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরও একই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর ফলে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের নিয়মিত বক্তা মাহমুদ আব্বাস সেবার সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। বরং তাকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।

বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএলও ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আবারও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে ও সমর্থন দিচ্ছে যা তাদের আগের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।

ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনি এই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) গিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা করছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরাসরি আলোচনার পথে না গিয়ে একতরফাভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়া, তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এবং স্কুলের পাঠ্যবই ও নানা বক্তব্যে সহিংস কর্মকাণ্ডকে উসকে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রান্সসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যারা গত বছর জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনের পর জাতিসংঘের মোট ১৪২টি সদস্য দেশ ফিলিস্তিনের সেই স্বীকৃতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল।

এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা এলো, যখন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

১৯৬৭ সাল থেকেই পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে সহিংসতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এএফপি জানায়, সেই থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে এখনো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় টানা অভিযান ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।