২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ২৮ হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, দাবি হুতিদের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। 

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার খবর এখন ইরান যুদ্ধের উত্তেজনাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার হুতিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ২৮ দফা হামলা চালিয়েছে।

আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনে রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতের মাঝেই এসব হামলা চালানো হয়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সৌদি বিমানবাহিনী তাইজ, আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে ২৮ দফা হামলা চালিয়েছে।' 

'খামিস মুশাইত ও তাইফ বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়', যোগ করেন তিনি। 

চলতি মাসে হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল দখলে নিতে আকস্মিক অভিযান শুরু করে।

ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকা আগে থেকেই তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে চলে যায়।

হুতিরা বলছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য এই প্রণালিতে নৌ চলাচল উন্মুক্ত ও অবাধ।

ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

২০২২ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। তবে এ বছরের জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। ওই সময় রিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা অমান্য করে একটি ইরানি উড়োজাহাজকে ইয়েমেনে অবতরণের অনুমতি দেয় হুতিরা।

এর আগে ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য অঞ্চল দখল করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে দরিদ্র দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, ইয়েমেনে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ খাবারের সংকটে রয়েছে এবং আরও ১০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার মুখে রয়েছে।