সিঙ্গাপুরে ৩৭ লাখ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম পেজ ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো মেটা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে ৩৭ লাখ অ্যাকাউন্ট, পেজ ও অন্যান্য কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সিঙ্গাপুর পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মেটা।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে তথ্য আদান-প্রদানের সহযোগিতার আওতায় সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স (এসপিএফ) মেটার তদন্তকারীদের ‘প্রতারক চক্র শনাক্ত ও ভেঙে দিতে’ সহায়তা করছে।

মেটার কর্মকর্তারা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জুনে মেটা জানিয়েছিল, স্কুল ছুটির মৌসুমে ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩ হাজার ৬০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ে মেটা ৩৬ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

এর বেশিরভাগই ছিল ‘শেল পেজ’। এগুলোতে কোনো কনটেন্ট নেই বা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয় না। তবে ভবিষ্যতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে—এই আশঙ্কায় এগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় মেটা।

তবে মেটা এ বিষয়ে কোনো তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেয়নি।

প্রতারকেরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন দেশে সক্রিয় থাকায় শুধু মেটার পক্ষে এই সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

মেটার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যারিল পুন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে প্রতারণা চক্রের পুরো চিত্রটি দেখতে পারে না। এরই সুযোগ নেয় প্রতারকেরা। তবে আমরা সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে যে ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, তা এই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, পুলিশের দেওয়া তথ্য ‘এমন হুমকি শনাক্ত করতে আমাদের সহায়তা করে, যা আমরা নিজেরা হয়তো শনাক্ত করতে পারতাম না।’

তিনি জানান, এখন আরও বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে মেটা। ফলে এসব চক্র বেশি মানুষকে প্রতারিত করার আগেই ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার যে মডেল গড়ে তুলেছে মেটা, সেটি পুরো অঞ্চলে সম্প্রসারণের আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেটার পাবলিক পলিসি বিভাগের পরিচালক ক্লারা কোহ বলেন, প্রতারকেরা এখন বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া প্রোফাইল তৈরি’ করছে। পাশাপাশি ভুয়া ছবি বানানো ও ক্ষতিকর কোড তৈরি অব্যাহত আছে।

তিনি জানান, মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মজুড়ে প্রতারণা ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত আছে। গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই প্রতারকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।