স্টার অ্যানিসের পুষ্টিগুণগুলো জানেন?
আমাদের রান্নাঘরে থাকা মশলাগুলোর প্রতিটিই যেন নিজস্ব গুণে অনন্য। তারার মতো দেখতে স্টার অ্যানিস তার সুগন্ধের জন্য বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এই মশলার গন্ধ বেশ তীব্র, তাই বিভিন্ন রান্নায় এটি খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। স্টার অ্যানিসে থাকা অ্যানিথলের কারণে এর এমন তীব্র সুগন্ধ হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে শিকিমিক অ্যাসিড।
রন্ধনশালার বাইরেও এই মশলার রয়েছে বেশ কিছু ওষুধি গুণ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশনিস্ট শরীফা আক্তার শাম্মী।
পুষ্টিগুণ
১ টেবিল চামচ স্টার অ্যানিসে রয়েছে—
ক্যালরি: ২৩ কিলোক্যালরি
প্রোটিন: ১ গ্রাম
ফ্যাট: ১ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৩ গ্রাম
ফাইবার: ১ গ্রাম
আয়রন: দৈনিক চাহিদার ১৩ শতাংশ
ম্যাঙ্গানিজ: দৈনিক চাহিদার ৭ শতাংশ
ক্যালসিয়াম: দৈনিক চাহিদার ৪ শতাংশ
ম্যাগনেসিয়াম: দৈনিক চাহিদার ৩ শতাংশ
ফসফরাস: দৈনিক চাহিদার ৩ শতাংশ
পটাশিয়াম: দৈনিক চাহিদার ৩ শতাংশ
কপার: দৈনিক চাহিদার ৩ শতাংশ
স্বাস্থ্য উপকারিতা
অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য
স্টার অ্যানিসে রয়েছে শিকিমিক অ্যাসিড। শিকিমিক অ্যাসিড হচ্ছে এক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ফ্লুর জন্য প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ওষুধে স্টার অ্যানিস একটি অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্টার অ্যানিসের এসেনশিয়াল অয়েল হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ ১-এর মতো কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে, এটি কেবল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে, মানুষের ওপর এর প্রয়োগ করা হয়নি এখনো।
অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য
স্টার অ্যানিসে প্রচুর পরিমাণে অ্যানেথল নামক যৌগ থাকে। এছাড়াও, লিনালুলের মতো কিছু উপাদান উপস্থিত থাকে। এই উপাদানগুলোর কারণেই মশলার সুন্দর একটা গন্ধ আমরা পেয়ে থাকি এবং এর কিছু অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। গবেষণাগারে ও কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে যে স্টার অ্যানিসে উপস্থিত এই উপাদানগুলোর ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য
এই মশলায় কিছু বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টার অ্যানিসের নির্যাস কিছু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া ও ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে এই গবেষণার বেশিরভাগই টেস্টটিউবে ও প্রাণীর ওপর করা হয়েছে। এই মশলার কার্যকারিতা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও হিউম্যান স্টাডির প্রয়োজন রয়েছে।
হজমে সহায়তা
স্টার অ্যানিস হজমে সহায়তা করে। ভরপেট খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডাইজেস্টিভ এনজাইমকে অ্যাকটিভ করার মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে সাহায্য করে এই মশলা।
নারীদের শরীরের হরমোনাল ব্যালান্স রক্ষায়
স্টার অ্যানিসের ইস্ট্রোজেন-সদৃশ কার্যকারিতা রয়েছে, যা নারীদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। বিশেষত, মেনোপজের সময় নারীদের দেহে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। তখন এই মশলা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, এ বিষয়ে অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে ব্যবহারের ফলে জ্বালাপোড়া, ফুলে যাওয়া, খসখসে হয়ে পড়া বা ফোসকা পড়তে পারে।
অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। যেমন: চুলকানি, ত্বকে লালচে ভাব, চাকা চাকা হয়ে ওঠা, ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, তন্দ্রাভাব বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খুব বিরল হলেও, অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে তা শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে খিঁচুনির কারণ হতে পারে।
কাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে
ওষুধি গুণের জন্য সাধারণত চাইনিজ স্টার অ্যানিস ব্যবহার করা হয়। তবে জাপানিজ স্টার অ্যানিসও পাওয়া যায়, যা বিষাক্ত এবং কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়। তাই এই বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
অন্তঃসত্ত্বা নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অবশ্যই এই মশলা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ বিষয়ে নিরাপদ ব্যবহারের ব্যাপারে এখনো বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
শিশুদের এই মশলা দিয়ে তৈরি চা বা খাবার না দেওয়াই শ্রেয়।
বেশি মাত্রায় ব্যবহার বা রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে পথ্য হিসেবে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।





