বাংলাদেশের ১৪৪ প্রাচীন মসজিদের সচিত্র সন্ধান যে বইয়ে
বাংলাদেশের প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক মসজিদগুলোর ইতিহাস, স্থাপত্যরীতি ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে বই লিখেছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ড. মো. আতাউর রহমান। তার দীর্ঘ গবেষণার একাংশ ‘বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ’ বইয়ে উঠে এসেছে। এতে দেশের ৬৪ জেলায় সরকারিভাবে সংরক্ষিত ১৪৪টি মসজিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলার মাটিতে ইসলামের আগমনের পর বিভিন্ন সময়ে নির্মিত এসব মসজিদ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি তৎকালীন নির্মাণশৈলী, শিল্পরুচি ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। সুলতানি, মোগল ও নবাবি আমলসহ বিভিন্ন সময়ে নির্মিত মসজিদগুলোর স্থাপত্যে খিলান, গম্বুজ, মিনার ও অলংকরণের বৈচিত্র্যও দেখা যায়।
বইটিতে নির্বাচিত ১৪৪টি মসজিদের নির্মাণকাল, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য, নির্মাণকৌশল, অলংকরণ ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ, দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, নওগাঁর কুসুমবা মসজিদ, ফেনীর শর্শদি মসজিদ, হবিগঞ্জের শংকরপাশা মসজিদ, টাঙ্গাইলের আতিয়া জামে মসজিদ, ঢাকার লালবাগ মসজিদ ও সাতগম্বুজ মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক মসজিদ সম্পর্কে জানা যাবে এই বইয়ে।
মো. আতাউর রহমানের পিএইচডি গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও গবেষণার ভিত্তিতে বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে আগ্রহী পাঠক ও গবেষকদের জন্য বইটি তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
লেখক মনে করেন, বাংলা তথা বাংলাদেশের মুসলিম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এসব মসজিদ নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা ও আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম। দেশের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য এক জায়গায় তুলে ধরার প্রয়োজন থেকেই বইটি রচনা করা হয়েছে।