আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ: গ্যাস সরবরাহ করা সিএনজি স্টেশন শনাক্ত হয়নি, গ্রেপ্তার নেই

আকলাকুর রহমান আকাশ
আকলাকুর রহমান আকাশ

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রিটি গ্রুপের পোশাক কারখানার পার্কিংয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশন এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মামলা হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তদন্তের শুরুতেই প্রিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্যাস সরবরাহকারী সিএনজি স্টেশনের তালিকা, চুক্তিপত্র ও যাবতীয় নথিপত্র চেয়েছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো নথি দেয়নি। আমরা সিএনজি স্টেশন শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সিএনজি স্টেশন শনাক্তের পর যদি অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারব।’

এ ঘটনায় গত সোমবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিতে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশের কোনো আইন বা বিধানে এটি অনুমোদিত নয়। প্রিটি গ্রুপ যে পদ্ধতিতে গ্যাস মজুত ও পরিবহন করছিল, তা আইন অনুযায়ী অবৈধ।

বিস্ফোরণের ঘটনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রিটি গ্রুপের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তবে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ প্রিটি গ্রুপের চারটি কারখানা খুলেছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে প্রিটি গ্রুপের কারখানার পার্কিংয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় আগুনে পুড়ে ছয়জন এবং বিস্ফোরণে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আরও দুইজন মারা যান। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।