গোপালগঞ্জে কলেজশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, বাবা আহত
গোপালগঞ্জে এক কলেজশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুখুরিয়া মোল্লাবাড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় গুরুতর আহত হন তার বাবা।
নিহত জোবায়ের হোসেন ভূঁইয়া (২২) গোপালগঞ্জ শহরের হাজী লালমিয়া সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা রমজান ভূঁইয়া (৫০) সদর উপজেলার ঘোড়াদাইড় গ্রামের বাসিন্দা।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘জোবায়েরকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে হামলা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পুখুরিয়া মোল্লাবাড়ি এলাকায় টিউশনি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জোবায়ের। সেসময় তার বাবাও তার সঙ্গে ছিলেন। পথে একদল যুবক তাদের ওপর হামলা চালায়।
এতে জোবায়ের ও তার বাবা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে জোবায়েরের মৃত্যু হয়।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জোবায়েরকে যখন আনা হয় তখন তার মাথায় আঘাত ছিল, কাটা ছিল। জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব ছিল না।'
হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. অনিমেশ চক্রবর্তী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জোবায়ের ও তার বাবা রমজান ভূঁইয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। জোবায়েরের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’
জোবায়েরের বাবা রমজান ভূঁইয়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান ডা. অনিমেশ চক্রবর্তী।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দুই-তিন দিন আগে জোবায়েরের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ফুপাতো ভাইকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।
আহত রমজান ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ছেলেকে আনতে গিয়েছিলাম। আগে জানতে পেরেছিলাম, ওরা আমার ছেলেকে মারবে। ঠিকই তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমার ছেলেকে কুপিয়ে-পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার মাথায়ও কোপ দিয়েছে।'
ওসি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।