প্রথম সচিব সভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি সহযোগিতা দেবে।
দুদক সচিব গতকাল বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সভায় দুদক সচিবকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী প্রথম সচিব সভায় অন্তত ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় সভা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে গতকাল দুদক সচিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বৈঠকে উপস্থিত অন্তত দুজন সচিব দ্য ডেইলি স্টারকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একজন সচিব বলেন, ‘সরকারি সেবা ও প্রশাসনে দুর্নীতির বিষয়ে জনগণের যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।’
‘নতুন সরকারের আমলে জনসেবাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বাস্তবতা স্বীকার করে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে আমরা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছি,’ যোগ করেন তিনি।
আরেক সচিব জানান, ‘দুদকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সরকারের কাছে এই সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুদক সচিব গতকালের সচিব সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।’
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তার নির্বাচনী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে গত রোববার বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। তারা নানা ধরনের ঘুষখোরি ও লুটপাট করে; যার ফলে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’
তার এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সচিব সভাতেও বিষয়টি উঠে আসে এবং এর ধারাবাহিকতায় দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তির প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে কি না—তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। তবে কেউ কেউ বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
এ সময় এক জ্যেষ্ঠ সচিব ‘আমলাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন।
সভায় সরকারের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সচিবদের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।’
‘নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, জনপ্রশাসনের প্রায় ২০ লাখ রাজস্ব পদের মধ্যে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় প্রসঙ্গে। এছাড়া, সরকারি ক্রয়নীতি (পিপিআর) অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কেনাকাটা সম্পন্ন করা এবং ক্রয়-সংক্রান্ত নথি আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সব দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
