আল নাসরে সবচেয়ে বড় হারের ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়ালেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক

আল নাসরের জার্সিতে নিজের সবচেয়ে বড় হারের ম্যাচে ক্ষোভ ও হতাশা সামলাতে পারেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে আল আইনের মাঠে ৪-০ গোলে উড়ে গেছে তার দল। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মাতিয়াস পালাসিওসের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

২০২২-২৩ মৌসুমে রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল রেড ডেভিলরা। সেই থেকে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য এত বড় ব্যবধানে হার এই প্রথম।

এবারের টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে এটি ছিল আল নাসরের প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি প্রো লিগের ক্লাবটি যখন ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন পালাসিওসের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়ান রোনালদো। আল নাসর একটি আক্রমণে ওঠার সময় ডি-বক্সের দিকে দৌড়ে যাচ্ছিলেন রোনালদো। তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আল আইনের পালাসিওস। জবাবে রোনালদো কনুই চালিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে দুজনই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। তবে এই ঘটনায় কাউকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি।

চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই দুজন ফুটবলারের এভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একই টুর্নামেন্টে আল নাসর যখন আল আইনকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তখনও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হওয়ার পর রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন পালাসিওসকে।

এবারের ঘটনার কিছুক্ষণ পরই চতুর্থ গোলটি হজম করে ম্যাচ থেকে একেবারে ছিটকে যায় আল নাসর। এই বাজে হারের পর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের পশ্চিমাঞ্চলীয় পয়েন্ট তালিকার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে দলটি। তবে নকআউট পর্বে ওঠার জন্য শীর্ষ আটে থাকার সমীকরণে তাদের সামনে এখনও সাতটি ম্যাচ বাকি।

খেলা শেষে আল নাসরের ম্যানেজার অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু স্বীকার করেন নিজেদের বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কথা, ‘দল হিসেবে পুরো আল নাসরই খারাপ খেলেছে।’ তবে হারের যাবতীয় দায় সম্পূর্ণ নিজের ঘাড়েই নেন তিনি।

দলকে লড়াইয়ে ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো। প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার ভেস্তে যায় তার প্রয়াস।

পুরো ম্যাচে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি শট নেন রোনালদো। তিনটিই অবশ্য গোলমুখে পৌঁছানোর আগে প্রতিহত করেন আল আইনের ডিফেন্ডাররা। একটি শট ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। বাকি মাত্র একটি শট পরীক্ষায় ফেলতে পারে স্বাগতিকদের গোলরক্ষক খালিদ ইসাকে। গোটা ৯০ মিনিটে রোনালদো কেবল ২৯ বার বল স্পর্শ করতে পারেন। তবে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ছিল স্রেফ তিনটি স্পর্শ।