নবম পে-স্কেল: মূল বেতন বাড়াতেই লাগবে ৩৭৩৭২ কোটি টাকা

রেজাউল করিম বায়রন
রেজাউল করিম বায়রন

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দুই ধাপে বাড়াতে সরকারের অতিরিক্ত ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাথমিক প্রাক্কলন করেছে অর্থ বিভাগ। এই হিসাবের মধ্যে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের কর্মী, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা রয়েছেন।

এর মধ্যে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের কর্মীদের জন্য লাগবে ২৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। আর পেনশন, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) ও এককালীন অনুদানের জন্য প্রয়োজন হবে ১৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

তবে চলতি অর্থবছরে ঠিক কত টাকা লাগবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন গ্রেডের বেতন চূড়ান্ত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রকৃত খরচের হিসাব স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এরই মধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। তবে একবারে পুরোটা না, চলতি ও আগামী অর্থবছর মিলিয়ে চার ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

বেতন ও ভাতার পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ভাতা ও পেনশনের জন্য ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বেতনের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে কর্মরত সরকারি কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। পেনশনভোগী রয়েছেন ৯ লাখ ২৫ হাজার।

নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে নিচের গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ গ্রেডও থাকছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিবেরা পাবেন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের বাড়িভাড়া বাবদ ৪০ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার টাকা, বিনোদন ভাতা ২ হাজার টাকা, মোবাইল ভাতা ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা যোগ হবে। সব মিলিয়ে তাদের মাসিক মোট প্রাপ্য দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর বাইরে সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও থাকবে।

গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মাসিক মোট বেতন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা হবে।

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রেড-৯ এ সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া নতুন কর্মকর্তার মাসিক মোট বেতন হবে ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা। বর্তমানে তারা পান ৩৬ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে, ঢাকায় কর্মরত গ্রেড-২০-এর একজন কর্মীর মাসিক মোট বেতন বেড়ে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা হবে। আগের বেতন কাঠামোয় তিনি পেতেন ১৫ হাজার ১১২ টাকা।

গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত কর্মীদের মূল বেতন প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাড়বে। এই ধাপ কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে বাকি ২৫ শতাংশ বাড়বে।

গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯-এর কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে শেষ ৩০ শতাংশ বাড়ানো হবে।

চতুর্থ ও শেষ ধাপ শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এ ধাপে ২০টি গ্রেডের সব কর্মীর অন্যান্য ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।