কুড়িগ্রামে সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা, ২ কৃষি কর্মকর্তা বদলি
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও কৃষক ভোগান্তির ঘটনায় দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
তারা হলেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলার বীজ প্রত্যয়ন অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
তার স্থলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা খামারবাড়ির প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীরকে পদায়ন করা হয়েছে। আজ বুধবার তিনি যোগদান করবেন।
অন্যদিকে, ভুরুঙ্গামারীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে আদিতমারী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুককে ভুরুঙ্গামারীতে পদায়ন করা হয়েছে।
তবে শুধু কৃষি কর্মকর্তার বদলি করে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন কৃষকেরা। তাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষকেরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গুনাইয়ের কুটি এলাকায় সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা হলে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। মারধরের অভিযোগ জানিয়ে পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ভুরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।
মামলায় ১১ জন কৃষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে। এ মামলায় দুই কৃষক গ্রেপ্তার হয়ে আট দিন কারাগারে ছিলেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক কৃষক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা।
গুনাইয়ের কুটি এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অনেক কৃষক ঘরছাড়া। তারা আতঙ্কে আছেন। মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা ঠিকভাবে মাঠে কাজ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
যোগাযোগ করা হলে আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমি এখন আদিতমারী উপজেলায়। মামলাটি পুলিশ দেখছে। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
আজ বুধবার সকালে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাকে ঝিনাইদহে বদলি করা হয়েছে। আমি এখন ঝিনাইদহের পথে।’ কুড়িগ্রামে সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও কৃষক ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



