আরেকজন অনুদান বেশি দেওয়ায় টাকা ফেরত নিয়ে ফাঁকা গুলি, তাঁতীদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোণার পূর্বধলায় আরেকজনের কাছ থেকে মসজিদের জন্য বেশি অনুদান নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তাঁতীদল নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনার ৫ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন পূর্বধলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল্লাহ আল রাহিদ।
অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক পূর্বধলার খলিশাউর ইউনিয়নের খলিশাউর গ্রামের মৃত ফজল করীমের ছেলে। তিনি আসন্ন খলিশাউর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন তাঁতীদলের জেলা কমিটির সহসম্পাদক।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খলিশাউর ইউনিয়নের খলাপাড়া (দক্ষিণ পাড়া) জামে মসজিদের মাইক কেনার জন্য ইমাম ও মসজিদ কমিটি বিভিন্নজনের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরদিন কমিটির সদস্যরা লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা অনুদান নেন।
এজাহারে বলা হয়, সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ বেশি অনুদান দেওয়ায় আবু বক্কর ক্ষিপ্ত হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর মসজিদের ইমাম ও কমিটির সদস্যদের ডাকেন। সেদিন রাতে পূর্বধলার ইছুলিয়া বাজারের একটি দোকানে ইমাম ও কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তার দেওয়া ৪ হাজার টাকা ফেরত চান। কমিটির সদস্যরা টাকা ফেরত দিয়ে দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত নিয়ে আবু বক্কর হুমকি-ধামকি ও কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মসজিদের ইমাম উমর ফারুক ও কমিটির সহসভাপতি ফজল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, '১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের সময় মাসুদ মিয়া মসজিদে গেলে তার কাছ থেকে মাইক কেনার জন্য পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরদিন সন্ধ্যার পর আবু বক্কর তাদের ডেকে নিয়ে তার দেওয়া ৪ হাজার টাকা ফেরত চান এবং তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি টাকা ফেরত নেন। তবে সেখানে গুলি কে ছুড়েছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।'
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবু বক্করকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। তবে তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার স্বামী গুলি ছোড়েননি। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।
ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পরপরই থানায় জিডি করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আবু বক্করের নাম আসে।
তিনি আরও বলেন, আবু বক্করের নামে কোনো বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। অস্ত্রটি অবৈধ হয়ে থাকতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা করছে।