প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই সাগরপাড়ের বাঁধে বসছে একের পর এক দোকান
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার উন্নয়ন এবং ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয় সরকার।
প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত এবং গঙ্গামতি সেতু হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় থাকা ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণ করতে ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও দেয় কর্তৃপক্ষ।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনার সাইজ, গাছপালাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
পাউবোর তথ্য মতে, কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে পেয়েছিলেন প্রত্যেক স্থাপনার মালিক।
গত বছর জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় কংক্রিটের ব্লক বসানো, বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইডে বনায়ন ও ঘাসের আবরণ তৈরি এবং বাঁধ রক্ষায় নয়টি স্লুইসগেট সংস্কার করা হয়।
তবে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন শেষ পর্যন্ত কতখানি টিকে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ প্রকল্প শেষ হতে না হতেই ফের ফিরে আসতে শুরু করেছে দখলদাররা।
সম্প্রতি সরজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে বন বিভাগের লাগানো গাছ কেটে জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে। সেসব জায়গায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন দোকানঘর।
সব মিলিয়ে গঙ্গামতির ধোলাই মার্কেট এলাকায় অন্তত ১২টি নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে রাতে এসব স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দিনের বেলায় বন বিভাগের লোকজন থাকে। তাই গভীর রাতে ঘর তোলা হয়। অনেকে দোকান তুলে তা আবার বিক্রিও করছে।’
বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় দোকান কিনেছেন এমন এক ব্যবসায়ী বলেন, রাকিব নামে একজন তাকে এই দোকান তৈরি করে দিয়েছেন। একই এলাকায় আগে রাকিবের বাবার দোকান ছিল। তাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিব দোকান বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। তবে ওই এলাকায় তার বাবার দোকান থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, মার্কেটের সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। তার দুটি দোকানের একটি তিনি নিজেই চালান, অন্যটি মাসে দেড় হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন।
আরেক ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘এই এলাকায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তা নির্মাণের জন্য জমিটি নিয়েছে।’
আশপাশের লোকজন জায়গা দখল করে দোকান তুলছেন দেখে তিনিও একই কাজ করেছেন বলে জানান।
বাঁধ দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের সামনে কেউ ঘর তোলে না। তবে রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণ চলে। নিষেধ করলেও দখলদাররা তা মানেন না।’
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাউবোর কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘সৈকত ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত স্থাপনা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। ধোলাই মার্কেট এলাকায় স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে।’
এ অবস্থায় দখলকারীরা স্বেচ্ছায় স্থাপনাগুলো না সরালে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান পাউবোর ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’
অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেকও।