লাইভ

অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ডারউইনে ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। রোববার ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ জয় তুলেছে ৯ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েছিলো বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দল লড়াই করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকেই। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকে কোণঠাসা করে দিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে গেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। রোববার ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ জয় তুলেছে ৯ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে আটকে দেওয়ার পর কেবল ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় টাইগাররা। তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে ছোট লক্ষ্য পেরিয়ে উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। দলের জয় নিশ্চিত করে সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে একবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে সেবার খেলা হয়েছিলো টার্নিং উইকেটে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গিয়ে স্পোর্টিং উইকেটে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলকে হারানো ছাড়িয়ে গেল সব কিছুকে। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার গিয়ে জয় আছে ভারতের। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা কখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জেতেনি, পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিলো ৩০ বছর। দুটি দলই অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি সফর করেছে। বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক দুই 'হাসান'। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও পান ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রাখলেন বড় অবদান। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়কে ১৯৮ রানে গুটিয়ে ম্যাচে দারুণ পেয়েছিলো সফরকারীরা। পরে তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মিরাজের ফিফটিতে দল করে ৪২৬ রান। ২২৮ রানে পিছিয়ে ম্যাচে ফিরতে পারেনি পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। মিরাজের স্পিনে কেবল ৫৬ রানের লিড নিতে পারে তারা। যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াইও জমাতে পারেনি তারা।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদের বিদায়

প্রথম ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে বড় লিড পাইয়ে দিয়েছলেন তানজিদ হাসান তামিম। ছোট লক্ষ্যে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে রান পেলেন না তিনি। ৫ বলে কোন রান না করে জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন বাংলাদেশের ওপেনার। ৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ৫৭

দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ বল করা মেহেদী হাসান মিরাজ টানলেন শেষটা। তার বলে প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটে পেলেন না ন্যাথান লায়ন। সহজ এলবিডব্লিউতে বিদায় তার। ৬৬ রানে পাঁচ উইকেট পেলেন মিরাজ। ক্যারিয়ারে ১৫তম বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তিনি।

সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনকে বোল্ড করলেন হাসান, ঐতিহাসিক জয়ের পথে বাংলাদেশ

একা লড়ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। বাকিদের ব্যর্থতার মাঝে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার বাধা দারুণ এক ডেলিভারিতে সরালেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসে তৃতীয় ও ম্যাচে নবম উইকেট শিকার ধরলেন বাংলাদেশের পেসার। ২৭৮ রানে নবম উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া। তাদের লিড ৫০ রানের। এই অবস্থা থেকে এখন ঐতিহাসিক জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

একা লড়ে গ্রিনের সেঞ্চুরি

প্রবল চাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কেবল ক্যামেরন গ্রিন। চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তায় বাকিদের ব্যর্থতার মাঝে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ১৯২ বলে তাসকিনের হলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন গ্রিন। টেস্টে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি, ঘরের মাঠে প্রথম। গ্রিনের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭২ রান, লিড ৪৪ রানের।

লাঞ্চের পর স্টার্ককে ফেরালেন তাসকিন

শুরুতে খুব একটা ভালো করতে না পারা তাসকিন আহমেদ অবশেষে ব্রেক থ্রো আনলেন। কিছুটা নিবেদন দেখানো মিচেল স্টার্ককে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার ৮ম উইকেট ফেললেন তিনি।

মিরাজের ঘূর্ণিতে প্রথম সেশনেই কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া

পুরনো বলে উইকেট সহজ হয়ে যাওয়ায় চতুর্থ দিনে বড় জুটির ভয় ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে সেটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আলেক্স কেয়ারি, বো ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে পর পর ফিরিয়ে দেন তিনি। রোববার প্রথম সেশনে ৮২ রান যোগ করে লিড পেলেও ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ৭ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গেছে তারা। ক্যামেরন গ্রিন ৮৫ ও মিচেল স্টার্ক ১৪ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন। অজিদের লিড ১৫ রানের।

লিড পেল অস্ট্রেলিয়া, মিরাজের ঘূর্নিতে বাংলাদেশের দাপট

ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেল না। ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ইনিংস হার এড়িয়েছে স্বাগতিক দল। তবে সকালের সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্নিতে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলায় ম্যাচে এখন কোণঠাসা অবস্থা তাদের। পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

মিরাজের ঘূর্নিতে জয়ের কাছে বাংলাদেশ

চতুর্থ দিনের সকালটা নিজের করে নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আলেক্স কেয়ারি, বো ওয়েবস্টারের পর অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও আউট করলেন তিনি। মিরাজের বলে ডিফেন্স করতে গিয়ে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েছেন কামিন্স। ২০৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কাঁপছে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস হার এড়াতে এখনো তাদের দরকার ২১ রান।

ওয়েবস্টারকেও বোল্ড করলেন মিরাজ

চতুর্থ দিন সকালে মেহেদী হাসান মিরাজ স্পিন ভেল্কিতে বাংলাদেশের দাপট অব্যাহত রাখলেন। আলেক্স কেয়ারির পর বো ওয়েবস্টারকেও ফিরিয়ে দিলেন তিনি। তার দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন অজি অলরাউন্ডার। ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া। এখনো ইনিংস হার এড়াতেই তাদের দরকার ৩৫ রান।

কেয়ারিকে ফিরিয়ে দিলেন মিরাজ

ক্যামেরন গ্রিন ও আলেক্স কেয়ারে পঞ্চম উইকেট জুটিতে পঞ্চাশ পেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিপদ বাড়ার আগেই সাফল্য পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিপার-ব্যাটার। গ্রিনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে তুলেছেন ৫৬ রান। ৭২ বলে ৩০ রান করে আউট হয়েছেন কেয়ারি। ১৭৮ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এখনো ইনিংস হার এড়াতে ৫০ রান করতে হবে তাদের।

ইতিহাস গড়ার হাতছানি বাংলাদেশের

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম তিন দিনে দাপট দেখিয়ে চালকের আসনে ছিলো বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে সেটা অব্যাহত রেখে ঐতিহাসিক জয়ের হাতছানি নাজমুল হোসেন শান্তদের। রোববার ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছে অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ তুলেছিলো ৪২৬ রান। ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর আগের দিন বল হাতে দারুণ শুরু হয়। ৩৭ রানে ২ ওপেনারকে ফেরানোর পর ১২২ রানে পড়ে ৪ উইকেট।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েছিলো বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দল লড়াই করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকেই। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকে কোণঠাসা করে দিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে গেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

রোববার ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ জয় তুলেছে ৯ উইকেটে।  অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে আটকে দেওয়ার পর কেবল ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় টাইগাররা। তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে ছোট লক্ষ্য পেরিয়ে উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। দলের জয় নিশ্চিত করে সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

২০১৭ সালে ঘরের মাঠে একবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে সেবার খেলা হয়েছিলো টার্নিং উইকেটে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গিয়ে স্পোর্টিং উইকেটে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলকে হারানো ছাড়িয়ে গেল সব কিছুকে। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার গিয়ে জয় আছে ভারতের। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা কখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জেতেনি, পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিলো ৩০ বছর। দুটি দলই অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি সফর করেছে।

বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক দুই 'হাসান'। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও পান ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রাখলেন বড় অবদান।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়কে ১৯৮ রানে গুটিয়ে ম্যাচে দারুণ পেয়েছিলো সফরকারীরা। পরে তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মিরাজের ফিফটিতে দল করে ৪২৬ রান। ২২৮ রানে পিছিয়ে ম্যাচে ফিরতে পারেনি পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। মিরাজের স্পিনে কেবল ৫৬ রানের লিড নিতে পারে তারা। যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াইও জমাতে পারেনি তারা।