কীভাবে প্রস্তুত হয়ে এমন তান্ডব, রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পর জানালেন অভিষেক

স্পোর্টস ডেস্ক

ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সফরের বাজে ফর্মের পর যখন চারপাশে প্রশ্ন আর সমালোচনা, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে পাল্টা জবাব দিলেন অভিষেক শর্মা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাণ্ডব চালিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছেন, জিতেছেন ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার। আর শেষ ম্যাচে তো মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গড়েছেন এক নতুন ইতিহাস। ৩৪ বলে ১০৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর জানা গেল, হুট করে নয়—বরং প্রতিপক্ষকে ব্যবচ্ছেদ করে বিশেষ প্রস্তুতির ফল ছিল তার এই তাণ্ডব।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ৭৬.৩৩ গড় এবং ২৬৯.৪১ স্ট্রাইক রেটে ২২টি ছক্কা সহ মোট ২২৯ রান করেছেন অভিষেক। দুর্দান্ত এই সেঞ্চুরির পর নিজের এই বিধ্বংসী ব্যাটিং রূপ আর নিখুঁত প্রস্তুতির রহস্য উন্মোচন করেছেন অভিষেক।

সিরিজের আগে বোলারদের নিয়ে কীভাবে নিখুঁত পরিকল্পনা সাজান, সে প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘আমার মনে হয় সবকিছুই নির্ভর করে প্রতিটি সিরিজের আগে আমার প্রস্তুতির ওপর। বিষয়টা আমার কাছে খুব নির্দিষ্ট। কার বিরুদ্ধে খেলছি এবং প্রতিপক্ষের বোলার কারা, তা নিয়ে আলাদা কাজ করি। পাওয়ারপ্লে কীভাবে কাজে লাগাব, সপ্তম বা অষ্টম ওভারে কে বল করতে আসতে পারে—সবকিছু আগে থেকেই ছকে রাখি।’

ঝুঁকিপূর্ণ এমন আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য দলীয় সমর্থনের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি, ‘আমি যেভাবে খেলি, তাতে অধিনায়ক ও কোচের সমর্থন থাকাটা ভীষণ জরুরি। সেই ভরসাটা পাওয়া দরকার। আমি মনে করি, আজ আমি যে এমন খেলতে পেরেছি—তাতে তাদেরও অবদান রয়েছে।’

নিজের ক্রিকেট দর্শনের কথা জানাতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমি নিজের খেলার ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা রাখতে চাই না। আমার নিয়ম একদম পরিষ্কার—বল দেখুন আর নিজের খেলাটা খেলুন। প্রথম দিন থেকেই আমি নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছি। প্রতি ম্যাচে সফল হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে আমাদের দলে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা হলো শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা।’

মাঠের পারফরম্যান্সে সমালোচকদের কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দলের খারাপ সময়ে সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন অভিষেক। গত কয়েক সিরিজের ব্যর্থতা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘একটি বা দুটি খারাপ সিরিজ দিয়ে ব্যাটিং বিভাগ হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন করা যায় না। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ যা-ই হোক না কেন, আমরা পুরো বছরজুড়েই আধিপত্য বজায় রাখতে চাই। ব্যাটারদের ক্যারিয়ারে চড়াই-উতরাই থাকবেই, সবচেয়ে বড় কথা দল হিসেবে আমাদের মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাকি সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের পাশে থাকতে হবে।’