বার্সেলোনা ৭-২ রেসিং: ৭টি চমকপ্রদ তথ্য

স্পোর্টস ডেস্ক

রাফিনিয়ার দৃষ্টিনন্দন হ্যাটট্রিকে ভর করে বুধবার রাতে লা লিগায় রেসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা। পাশাপাশি জোয়াও ক্যানসেলো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল জালের দেখা পান। অন্য গোলটি আত্মঘাতী।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র সাত ম্যাচে ৩৩টি গোল করেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোতে থাকা কাতালানরা। এর মধ্যে লিগে ছয় ম্যাচে ২৮ গোল পেয়েছে শিরোপাধারীরা।

রেসিংয়ের বিপক্ষে বিধ্বংসী জয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু রেকর্ড ও নজরকাড়া পরিসংখ্যান। এমনই সাতটি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য:

লা লিগায় ছয় ম্যাচে ২৮ গোল

প্রথম ছয়টি লিগ ম্যাচ থেকে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট অর্জনের পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক গোল করেছে বার্সেলোনা। এই ছয় ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ২৮টি, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪.৬টি গোল।

১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার ৩২ গোলের পর প্রথম ছয় ম্যাচ শেষে এটিই লা লিগায় কোনো ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলের নজির। আর বার্সার নিজেদের ইতিহাসে এটি নতুন ক্লাব রেকর্ড, যা ২০১১-১২ ও ১৯৫০-৫১ মৌসুমের ২৩ গোলের পূর্ববর্তী কীর্তিকে ছাপিয়ে গেছে।

অনবদ্য রাফিনিয়া-ইয়ামাল জুটি

লা লিগায় বার্সেলোনার ২৮টি গোলের ১৬টিই করেছেন রাফিনিয়া ও ইয়ামাল মিলে। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া করেছেন নয়টি ও স্প্যানিশ উইঙ্গার ইয়ামাল সাতটি।

লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচে কোনো দলের দুজন খেলোয়াড় মিলে কমপক্ষে ১৬টি গোল করার ঘটনা এর আগে সবশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৪০-৪১ মৌসুমে। সেবার সেভিয়া ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ— উভয় ক্লাবের আক্রমণাত্মক জুটি এই নজির গড়েছিল। এর মাধ্যমে ৮৬ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে বার্সা।

রাফিনিয়ার গোল উৎসব

ঘরের মাঠে রেসিংয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে সাত ম্যাচে রাফিনিয়ার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টি। লিগে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করেছেন তিনি।

১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে মারিয়ানো মার্তিনের (প্রথম সাত ম্যাচে ১২ গোল) পর এটিই বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ের মৌসুমের সেরা সূচনা।

ইয়ামালের ব্যক্তিগত রেকর্ড

রেসিংয়ের বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে পুরো ম্যাচে গোলের সন্ধানে থাকা তরুণ তারকা ইয়ামাল শেষদিকে জালের দেখা পান। এই নিয়ে টানা চারটি লা লিগা ম্যাচে গোল করেছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন ব্যক্তিগত রেকর্ড।

পাঁচ ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল

চলতি মৌসুমের সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই পাঁচ বা তার বেশি গোল করেছে বার্সেলোনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে কোনো স্প্যানিশ ক্লাবের এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি। কেবল অ্যাথলেটিক বিলবাও (২-০ ব্যবধানে জয়) ও লেভান্তে (৪-২ ব্যবধানে জয়) কাতালানদের বিপক্ষে পাঁচ গোল হজম করা থেকে রেহাই পেয়েছে।

শুরুতেই গোল পাওয়ার অভ্যাস

চলমান ২০২৬-২৭ মৌসুমে বার্সার দারুণ শুরুর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো ম্যাচের প্রথম দিকেই গোল আদায় করে নেওয়া। রেসিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা গোলের দেখা পায়। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে গোল করেছে দলটি।

১৮২ দিন পর আবারও ৭-২ গোলের জয়

কোনো ম্যাচে ৭-২ গোলের ব্যবধান সাধারণত বিরল হলেও বার্সার সমর্থকদের এটি দেখতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ঠিক ১৮২ দিন আগে, অর্থাৎ গত ১৮ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তারা।

তবে লা লিগায় বার্সেলোনার ৭-২ ব্যবধানে জয়ের ইতিহাস খুঁজতে ফিরে যেতে হবে ২৩ বছর আগে, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেবার কোচ ইয়োহান ক্রুইফের অধীনে স্পোর্তিং গিহনকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।