রাবির শামসুজ্জোহা হলে এবার ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপের কামড়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আবারও বিষধর কালাচ সাপ পাওয়া গেছে। এবার ঘুমন্ত এক শিক্ষার্থীকে কামড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
চলতি মাসের শুরুতে একই হলের একটি কক্ষ থেকে বিষধর কালাচ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাপের কামড়ে আহত নুরনবী ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সহপাঠীরা জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবীর পায়ে কামড় দেয় সাপটি। তার চিৎকারে রুমমেটরা জেগে উঠে কক্ষে সাপটি দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে অ্যান্টিভেনম দেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন।
নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সাপ কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নুরনবী চিৎকার করেন। আমরা উঠে সাপটি দেখতে পাই। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন কামড় দেওয়ার পর হয়তো ব্যবস্থা হবে। কিন্তু মৃত্যুর পর আশ্বাস দিয়ে কোনো লাভ নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচারের (সোয়ান) সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খবর পেয়ে তারা হলের ওই কক্ষে যান। পরে প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘কক্ষ অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো থাকলে এসব সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে। কালাচ সাধারণত উষ্ণতার খোঁজে মানুষের বিছানায় উঠে আসতে পারে এবং শরীরের সংস্পর্শে এলে দংশন করতে পারে।’
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর একই হলের তৃতীয় ব্লকের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে একটি কালাচ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেদিন ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা মশারির ওপর সাপটি দেখতে পান।
ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হলে স্নেক নেট স্থাপন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও হলের পেছনের আগাছা পরিষ্কার এবং কক্ষের জানালায় নেট লাগানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আজকের ঘটনার পর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘আগের ঘটনায় হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার এবং সাপ প্রতিরোধে সার্কেল ও ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে কক্ষে ঢুকেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।’
রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘এর আগে কক্ষ থেকে সাপ উদ্ধারের পরও পুরো হলে স্নেক নেট স্থাপন করা হয়নি।’
তিনি হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, পুরো হলে স্নেক নেট স্থাপন এবং আহত শিক্ষার্থীর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান।
হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ড্রেনেজ উন্নয়ন, ঘাস কাটার মেশিন ও স্নেক নেটের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা গেছে।’
‘মৃত্যুর পর নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আগেই নিশ্চিত করতে হবে,’ বলেন তিনি।
