গল্প

আঁকার আনন্দ

kamalesh roy
কমলেশ রায়

মা, আজ বাংলা টিচার কী বলেছেন জানো?

কী বলেছেন?

বলেছেন একুশ-বাইশ এই দুই পৃষ্ঠা রিডিং পড়বে।

তো অসুবিধা কী?

না মানে রিডিং পড়া। এই দুই শব্দের তো একই অর্থ। হি-হি-হি।

মিতি, পাকামো করবে না।

মোটেই পাকামি করছি না মা। একটা বিষয় খটকা লাগল। তাই জানতে চাইছি।

তাহলে তুমি বলে দাও কী বললে কথাটা ঠিক হতো।

বাংলা টিচার বলতে পারতেন, এই দুই পৃষ্ঠা পড়ে আসবে।

তুমিও তো বাংলা টিচার না বলে বাংলা শিক্ষক বলতে পারতে।

হ্যাঁ, পারতাম। আমার ভুল হয়েছে।

এ রকম ভুল কমবেশি সবাই করে। তাই এগুলো অতো ধরতে হয় না।

আচ্ছা, যাও ধরব না। তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরি।

হঠাৎ হলোটা কী?

মা, ফ্রিজ থেকে একটু আইসক্রিম বের করে খাই। একদম অল্প এ-ক-টু।

না। গত রাতে তুমি তিনটা কাশি দিয়েছো।

আমার গলা ঠিক আছে মা। একটু খাই। প্লিজ।

মিতি, বললাম তো না।

কেন, একটু খেলে কী হয়?

ঋতু বদল হচ্ছে। এখন একটু সাবধানে থাকতে হবে। তোমাকে আমি ডিম পোচ করে দিচ্ছি। আগে সেটা খাও। এরপর কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে দেবো। আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে খাবে।

মা, এসব আমার ভালো লাগে না।

ভালো না লাগলেও খেতে হবে।

আচ্ছা, তুমি যে বললে কুসুম গরম। এই কুসুম মানে কি ফুল? নাকি ডিমের কুসুম?

মিতি, একদম দুষ্টুমি করবে না।

দুষ্টুমি কোথায় দেখলে? আমি তো একটা জিনিস জিগ্যেস করেছি মাত্র।

তোমার এই জিগ্যেস করার মানে আমি বুঝি।

বুঝে থাকলে উত্তর দাও। হি-হি-হি।

হাসির কী হলো? কুসুম গরম মানে হালকা গরম। ঈষৎ উষ্ণ। এ নিয়ে একটা এক কথায় প্রকাশ আছে। পরীক্ষায় খুব আসে।
কী সেটা?

ঈষৎ উষ্ণ যাহা। বলো এর উত্তর কী?

জানি না মা। তুমি বলে দাও।

কবোষ্ণ।

উফ! কী কঠিন বাংলা রে বাবা।

এর মধ্যে আবার বাবা কোত্থেকে এলো। সামনে তো তোমার মা।

তুমিও মজা করছো। হি-হি-হি।

কেন মজা কি তুমি শুধু একাই করতে পারো?

তুমিও অনেক মজা করতে পারো। দেখতে হবে না কার মা।

খালি পাকা পাকা কথা। মুখে কথার খই ফোটে।

মা, খই ফুটলে শব্দ হয়। বাজি ফুটলে শব্দ হয়। ফুল ফুটলে হয় না কেন?

চড় দিলেও কিন্তু শব্দ হয়। খালি পাকামো।

আচ্ছা, একটা মজার প্রশ্ন করি। তুমি উত্তর দাও।

কী প্রশ্ন?

বলো কোন সংখ্যা পা চাটে?

এটা আবার কী রকম প্রশ্ন? সংখ্যা পা চাটতে যাবে কেন?

পা চাটে তো। তুমি পারবে কি না বলো।

না, পারব না। ফালতু টাইপের একটা প্রশ্ন।

পাঁচের ঘরের নামতা তো জানো। পাঁচ একে পাঁচ। পাঁচ চারে বিশ। পাঁচ আটে চল্লিশ। দ্রুত বললে পাঁচাটে চল্লিশ। সুতরাং চল্লিশ সংখ্যাটি পা চাটে।

মারব একটা। মাথার মধ্যে দুষ্টু বুদ্ধি শুধু কিলবিল করে।

মাথার মধ্যে সহজ একটা কুইজ কিলবিল করছে। এবার সেটার উত্তর দাও। কি দেবে?

আগে শুনি তোমার প্রশ্ন।

বলো তো কোথায় জল থাকে না, কিন্তু অনেক ঢেউ থাকে?

পারব না।

ভেবে বলো। তুমি আজকে মাথাই খাটাচ্ছো না।

মাথা খাটানোর দরকার নেই। আমার এখন রান্না করতে হবে।

কি পারলে না?

না। তুমি বলো।

উত্তর হচ্ছে ঢেউটিন বা টিনের চালে।

ঠিক আছে। অনেক মজা করেছো। এবার গিয়ে পড়তে বসো। আমি এখন রান্নাঘরে যাব।

মা, তোমার রান্না অনেক মজা হয়। আজ কী রান্না করবে?

হাঁসের মাংস।

সঙ্গে খিচুড়ি?

হ্যাঁ। যাও বই নিয়ে বসো।

মা, হাঁসের মাংসের মধ্যে কয়েকটা হাঁসের ডিম দিও।

কেন? হাঁসের ডিম দিতে হবে কেন?

তাহলে রেসিপির নাম দিতে পারবে পুনর্মিলনী।

আজ থেকে রিলস দেখা বন্ধ। খাবারের আবোল তাবোল রিলস দ্যাখো। আর অদ্ভুত সব আবদার করো।

তুমি শুধু শুধু রেগে যাচ্ছো। আমাদের শহরে হাঁসের মাংসের জন্য বিখ্যাত একটি খাবারের দোকান আছে। নাম ‘ডাক’। এই দোকানের স্পেশাল আইটেম হচ্ছে ‘পুনর্মিলনী’। এই পদে হাঁসের মাংসের সঙ্গে হাঁসের ডিমও দেওয়া হয়।

তুমি এটা কী করে জানলে?

আমাদের ক্লাসের পিউ বলেছে। ও গিয়েছিল ওর মা-বাবার সঙ্গে। আসলে পিউয়ের মামা সবাইকে নিয়ে গিয়েছিল। পিউ বলেছে, এই আইটেমের নাম যেমন মজার। খেতেও তেমনি মজা।

আচ্ছা, ঠিক আছে। তোমাকে আজই পুনর্মিলনী রেঁধে দেবো।

তুমি হলে আমার লক্ষ্মীমা।

থাক, অত ফোলাতে হবে না।

তুমি কী ফুলকো লুচি যে ফুলবে? তুমি হলে আমার ছিপছিপে মা।

আবার পাকামো হচ্ছে! এবার কিন্তু সত্যি সত্যি মারব একটা।

মা, তুমি আমাকে সব কিছু বেশি বেশি দিতে চাও। অথচ রাগ দেখানোর সময় বলো মারব একটা। কেন?

কারণ মারের ওপর ওষুধ নাই। একটা মারলে একদিনের জন্য যথেষ্ট।

এরপর বলবে মারব দুইটা। তাহলে দুই দিনের জন্য যথেষ্ট হবে। হি-হি-হি।

বলো তো কী খেলে পেট ভরে না?

জানি মা, মাইর খেলে পেট ভরে না।

মাইর খেতে না চাইলে গিয়ে পড়ার টেবিলে গিয়ে বসো।

বসছি। তবে এখন আমি পড়ব না।

তাহলে কী করবে?

ছবি আঁকব।

কী ছবি আঁকবে?

রাগী একটা মাকে আঁকব। যে তার মেয়েকে সারাক্ষণ পড়তে বলে।

না পড়লে বড় হবে কী করে?

আমি তো বড় হচ্ছি। গত বছর আমি তিন ইঞ্চি লম্বা হয়েছি।

মিতি, শুধু লম্বায় না, জ্ঞানে বড় হতে হবে। মানুষ হিসেবে বড় হতে হবে।

আমি চেষ্টা করব মা।

এই তো আমার লক্ষ্মী মেয়ে।

তুমি তো বলো, আমি তোমার দুষ্টু মেয়ে। হি-হি-হি।

ঠিক আছে, এখন যাও। গিয়ে ছবি আঁকো। কী আঁকবে?

বাংলাদেশের পতাকা।

খুব ভালো। সুন্দর করে আঁকবে। ঠিক মতো রঙ করবে।

আমাদের পতাকা তো এমনিতেই সুন্দর মা। সবুজের মধ্যে লাল। আঁকতে খুব ভালো লাগে।