আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: প্রিটি গ্রুপের ৪ কারখানা আজ বন্ধ
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনে হতাহতের ঘটনার পর প্রিটি গ্রুপের চারটি কারখানা আজ সোমবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানা চারটি হলো—প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রিটি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড।
এই চার কারখানা একই জায়গায় অবস্থিত। গতকাল কারখানার পার্কিংয়ে থাকা লরিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর আজ বন্ধের নোটিশ দেয় প্রিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। এই নোটিশ কারখানার সামনে টানানো রয়েছে।
কারখানা বন্ধের বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আগুনের ঘটনায় প্রিটি গ্রুপের চারটি কারখানা শুধু আজকের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলবে। আগুনে কারখানার ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি। শুধু পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলো পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রমিকেরা সকালে কারখানার সামনে এসে চলে গেছেন।
ওসি আরও বলেন, আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজন মারা গেছেন—এই তথ্যই আমাদের কাছে আছে। একটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। বাকি ছয়টি মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। পোড়া গাড়ি থেকে যে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আজ খুব ভোরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। কারখানাগুলোতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আজকের জন্য কর্তৃপক্ষ চারটি কারখানা বন্ধ করেছে।
মিন্টু আরও বলেন, এ ঘটনায় কোনো শ্রমিক নিখোঁজ আছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তবে আরও শ্রমিক নিখোঁজ কিংবা মারা যাওয়ার শঙ্কা খুবই কম। কারণ আগুন কারখানায় লাগেনি, শুধু পার্কিংয়ে লেগেছে। যারা মারা গেছেন, তারা অধিকাংশই কারখানার পরিবহন সেক্টরে কাজ করেন। তারপরও আগামীকাল কারখানা খুললে বোঝা যাবে কারখানার কোনো শ্রমিক নিখোঁজ আছেন কি না।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও শ্রম অধিদপ্তর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে ক্ষয়ক্ষতির অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য। আগুনে যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।