সিটি শাস্তি পেলে হালান্ডকে নিয়ে বদলে যেতে পারে দলবদলের হিসাব
ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ঢেউ এবার এসে ঠেকতে পারে আর্লিং হলান্ডের দরজাতেও। আর্থিক বিধি ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে জানিয়ে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনের পর ইংলিশ ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পয়েন্ট কাটা, অবনমন কিংবা আগের শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো শাস্তি হলে তার প্রভাব শুধু সিটির মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বদলে যেতে পারে ক্লাবটির সবচেয়ে বড় তারকাদের ভবিষ্যৎও। সেই তালিকায় সবার আগে উঠে আসতে পারেন হালান্ড।
অথচ খুব বেশিদিন আগেই ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার করেছেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। ২০৩৪ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করে প্রায় পুরো দশকই ইতিহাদে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সিটির প্রকল্পের ওপর আস্থারও বড় প্রমাণ ছিল সেই চুক্তি। কিন্তু ক্লাবের ওপর বড় কোনো ক্রীড়া শাস্তি নেমে এলে সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটই বদলে যেতে পারে।
জরিমানা কিংবা কিছু পয়েন্ট কেটে নেওয়ার সঙ্গে অবনমনের মতো শাস্তির পার্থক্যও বিশাল। সিটি সরাসরি অবনমনের শিকার হলে, কিংবা বড় অঙ্কের পয়েন্ট হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়লে, হালান্ডের সামনে তৈরি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও তখন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
হালান্ডের ঘনিষ্ঠ মহলে এর আগে তার চুক্তিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্লাব ছাড়ার সুযোগ থাকার কথা আলোচিত হয়েছে। তবে সিটি অবনমনের শিকার হলেই সেই ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমনকি তার চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য এসেছে। তাই অবনমন হলে হালান্ড সরাসরি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সিটিতে থাকার সিদ্ধান্তের ভিত্তি যে বদলে যেতে পারে, সেটি নিয়ে সংশয়ের অবকাশ কম।
সেখানেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় আসবে রিয়াল মাদ্রিদের নাম। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও হলান্ডকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। তখন তার সঙ্গে যোগাযোগও রেখেছিল তারা। ফলে হালান্ড কখনো সত্যিই সিটি ছাড়ার কথা ভাবলে রিয়াল হতে পারে সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর একটি।
তবে বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদে তার জায়গা করে নেওয়ার হিসাবটাও সহজ নয়। কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সম্প্রতি ২০৩২ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন। জুড বেলিংহামের চুক্তিও ২০২৯ সাল পর্যন্ত। যদিও তার পারিশ্রমিক ও চুক্তির উন্নতি নিয়ে রিয়াল ভাবছে বলে খবর রয়েছে। ফলে হালান্ডকে দলে নিতে হলে আক্রমণভাগের বর্তমান কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
হালান্ডের প্রতি আগ্রহ রয়েছে বার্সেলোনারও। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক ডেকো একাধিকবার হলান্ডের পরিস্থিতি নিয়ে তার এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতালান ক্লাবটিও প্রকাশ্যে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
অবশ্য হালান্ডকে দলে নিতে বার্সেলোনার প্রয়োজন হবে বিপুল আর্থিক সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে রবার্ট লেভানদোভস্কির বিদায়ের পর একজন ‘ক্লাসিক’ গোলস্কোরিং স্ট্রাইকারের ঘাটতি তৈরি হলে নরওয়েজিয়ান তারকাকে দলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সেখানে তৈরি হতে পারে।
তবে সিটি ছাড়লে আরেকটি বড় প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবে হালান্ডের যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছে প্রতিবেদনটি। ইংল্যান্ডের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ক্লাবে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। ম্যানচেস্টারে হালান্ডের সম্পর্ক, সিটির হয়ে গড়ে তোলা সাফল্য এবং তার পরিবারের সঙ্গে শহরটির পুরোনো সম্পর্ক, সব মিলিয়ে সিটি থেকে আরেক ইংলিশ জায়ান্টে যাওয়া সাধারণ কোনো দলবদলের মতো হবে না।
শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য শাস্তির মাত্রার ওপর। শাস্তি যদি দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানকে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না করে, তাহলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত করা চুক্তি পূরণ করার যথেষ্ট কারণ থাকবে হালান্ডের। কিন্তু শাস্তি যদি সিটির জন্য বড় ধরনের ক্রীড়া সংকট তৈরি করে, তাহলে ইউরোপের দলবদলের বাজারে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারেন এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন।
২৬ বছর বয়সী হালান্ডের গোল করার হার প্রতি ম্যাচে ১ দশমিক ১৪। তার বাজারমূল্যও প্রায় ২২ কোটি ইউরো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সিটি সত্যিই বড় শাস্তির মুখে পড়লে শুধু একটি ক্লাবের ভবিষ্যৎ নয়, ইউরোপের অন্যতম বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে শুরু হতে পারে জোর আলোচনা।