ভেনেজুয়েলায় ফিরতে চান মাচাদো, কী পরিকল্পনা করছেন তিনি?
আজকাল মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘুম ভাঙে ভোর ৬টায়। প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের কাছে এক বন্ধুর থেকে ধার করা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন তিনি। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কড়া কফি পান করেন। এরপর ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলার পরিকল্পনার কাজ শুরু করেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থেকে এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে পারি না। ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।’
গত ডিসেম্বরে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে ছদ্মবেশে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার পর থেকে নয় মাস নির্বাসনে রয়েছেন মাচাদো।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে তিনি দেশে নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনকে ফের সক্রিয় করতে একটি বিস্তারিত কৌশল তৈরি করেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে চান। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে যে অন্তর্বর্তী সরকারকে জোরালোভাবে সমর্থন করছেন, মাচাদো সেই সরকারকে সরিয়ে দিতে চান। ওই সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ব্যাপক প্রবেশাধিকার দিয়েছে।
দেশে ফেরার প্রস্তুতি, নির্বাচনের পরিকল্পনা
মাচাদোর পরিকল্পনা এমন এক রাজনৈতিক স্বাধীনতার ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে তিনি পাননি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মাচাদোর দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়। তবে জুনে ভেনেজুয়েলায় ঢোকার প্রথম চেষ্টা মাঝপথেই থেমে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার কারণে তার ফ্লাইট ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, মাচাদো দেশে ফিরলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বিঘ্নিত হয়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এরপর পরবর্তী প্রচেষ্টার প্রস্তুতি নিতে পানামা সিটিতে অবস্থান নেন তিনি।
যেকোনো মুহূর্তে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কবে ফিরবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মাচাদো বলেন, ১০ মিনিটের মধ্যে তার দেশে ফেরার নির্দেশ আসতে পারে, আবার ১০ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। স্থল, সমুদ্র বা আকাশ, যেকোনো পথে ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে চান তিনি। তবে ফেরার পথের চেয়ে দেশে গিয়ে তিনি কী করবেন, সেটিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাচাদো ভেনেজুয়েলার ২৩টি রাজ্যজুড়ে প্রথম কয়েক মাস ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পুরনো প্রচারাভিযান আবারোও শুরু করতে চান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশের স্বীকৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোকে পরাজিত করেছিল ওই আন্দোলন। তবে কারাকাস সেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।
এবার মাদুরোর মিত্রদের হাতে থাকা ক্ষমতা থেকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবিতে তৃণমূল পর্যায়ের সেই নেটওয়ার্ক আবার সক্রিয় করতে চান মাচাদো।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, ‘একেবারে ছোট ছোট জনপদ থেকে পুরো দেশজুড়ে নিজেকে ঘুরে বেড়াতে দেখছি। সেখানে মা, শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, চালক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সবার সঙ্গে বসব, তাদের কথা শুনব।’
আর দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করাই তার দলের ‘প্রথম দিনের’ অগ্রাধিকার হবে। সেই নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হতে চান। এর মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়টিও থাকবে।
জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাচাদোর দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলা দেশজুড়ে হাজারো নাগরিক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সেখানে সাধারণ ভেনেজুয়েলাবাসীর মতামত সংগ্রহে কিউআর কোড ব্যবহার করা হবে। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এসব মতামত বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতা পরিবর্তন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হবে।
তার দলের সদস্যরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীরে ধীরে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসছেন। জুনে মাচাদোর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ কর্মীরা ১৬টি রাজ্যে ‘ইলেকসিওনেস ইয়া’ বা ‘এখনই নির্বাচন’ সমাবেশ করেন। এর লক্ষ্য ছিল আবার মাঠপর্যায়ের সংগঠন গড়ে তোলা।
মাচাদো ও তার দলের সদস্যরা বলছেন, তারা শুধু নির্বাচনী প্রচার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। তারা সক্রিয়ভাবে সরকার পরিচালনার পরিকল্পনাও করছেন। জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের পর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিচারব্যবস্থা, সশস্ত্র বাহিনী ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিতে পারেন, এমন ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করছেন তারা।
রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা
ট্রাম্প যখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি ক্রমেই বেশি সমর্থন দিচ্ছেন, তখন মাচাদো জোর দিয়ে বলছেন, তিনি এবং একটি গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক মিত্র হতে পারে।
মাচাদো বলেন, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াবেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মার্কিন সংস্থা ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে কাজ করবেন। সীমান্তে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দিতে কলম্বিয়ার সঙ্গেও সমন্বয় করবেন।
মাচাদো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তার দলের সদস্যদের ভাষ্য, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের কথা ভাবছেন এমন কয়েকজন নির্বাহী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বর্তমান সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি ক্ষমতার পালাবদলের পরও বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
জার্নালকে মাচাদো বলেন, ‘আমি তাদের সবাইকে বলেছি, ভেনেজুয়েলায় যান। আমি তাদের অপেক্ষা করতে বলছি না।’
তবে মাচাদো তার এই পরিকল্পনার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি দেশে ফিরবেন, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বড় একটি অংশই তার বিরুদ্ধে।
রদ্রিগেজ সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়ার জন্য মাচাদোকে ‘ভেনেজুয়েলার কাছে জবাব দিতে হবে’। অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও তার উদ্দেশে বলেছেন, তার জন্য ‘একটি চমক’ অপেক্ষা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জুনে বলেন, ‘আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি। তার দ্রুত আসাই ভালো।’
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের ভাষ্য, জুনে রদ্রিগেজকে ট্রাম্প ফোন করে বলেছিলেন, মাচাদো দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে যেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয় বা তার ফেরায় বাধা দেওয়া না হয়।
তবে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, মাচাদো সময়ের আগেই দেশে ফিরলে সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং প্রশাসনের ক্ষমতা পরিবর্তন পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।
জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাচাদো ও তার সমর্থকেরা এসব মার্কিন কর্মকর্তার অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় তার উপস্থিতি কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। দেশ ছেড়ে দূরে থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারেরই একটি অংশ।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে রদ্রিগেজের অংশীদারত্ব আরও শক্ত করেছে। মাদুরোর দীর্ঘদিনের এই ডেপুটির সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প বড় একটি তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রদ্রিগেজের সঙ্গে তার বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পাবেন রদ্রিগেজ।
ওয়াশিংটন যে সরকারের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মাচাদো এখন সেই সরকারের সমালোচনায় আরও সরব হয়েছেন।
মাচাদো বলেন, ‘দেলসি রদ্রিগেজ বিশৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সবকিছুই জবরদস্তির মাধ্যমে করেছেন।’
রদ্রিগেজের সরকারকে ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য, এমনকি একটি দোকান চালানোর সক্ষমতাও নেই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রদ্রিগেজের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
তেল চুক্তি ও মাচাদোর অবস্থান
মাচাদোর দেশে ফেরাকে ঘিরে তীব্র বিতর্কে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে ভেনেজুয়েলা কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে।
গত মাসে ট্রাম্প ঘোষিত বড় তেল চুক্তি মাচাদোর অবস্থানকে আরও জটিল করেছে। জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আওতায় পেন্টাগন একটি বেসরকারি কোম্পানির ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব পাবে। ওই কোম্পানিটি ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেতানকুর্তের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুতের পাঁচ ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।
বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী সাবেক ভেনেজুয়েলান নেতা হুগো চাভেজ ও মাদুরোর আমলে বিপুল সম্পদ গড়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে ‘অসাধারণ’ সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে ট্রাম্প ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ নিশ্চিত করতে পেরেছেন।
রদ্রিগেজ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তিটি হওয়ায় মাচাদোর পক্ষে এটিকে সমর্থন করা কঠিন। তবে প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করলে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর একটির বিরোধিতা করা হবে।
চলতি বছরের শুরুতে মাচাদোর দল কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যান এবং কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পোপ লিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোপ তাকে রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সাধারণত যে ধরনের অভ্যর্থনা ও উচ্চপর্যায়ের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, তা দেন।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিনি ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পরামর্শ দেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুনের দুটি ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়। মাচাদোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে দাঁড়ায়।
‘আমাদের দেশে একটি অতল গহ্বর তৈরি হয়েছে,’ বলেন মাচাদো। দুর্বল হয়ে পড়া সরকারের তৎপরতার বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে দেখে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সেদিনই সবকিছু চূড়ান্তভাবে ভেঙে গেছে।’
ট্রাম্প প্রথমদিকে বলেছিলেন, দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ‘সমর্থন’ ও ‘সম্মান’ মাচাদোর নেই। তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকানদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা নিয়ে মাঝেমধ্যে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, মার্চে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও কয়েকজন রাজনীতিকের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে ট্রাম্প মাচাদোকে ফোন করে লাউড স্পিকারে কথা বলেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দেখা ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে সবাই আপনাকে ভালোবাসে।’
আলোচনা সম্পর্কে জানা ব্যক্তিদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, নির্বাসিত ভোটারদের সমর্থনসহ একটি নির্বাচনে মাচাদো এখনো সহজেই জিততে পারেন। তবে তার সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে কিছু কর্মকর্তার সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো ব্যবস্থার অবশিষ্ট অংশগুলো, যার মধ্যে সামরিক বাহিনীও রয়েছে, সেগুলোকে তিনি একসঙ্গে ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ক্ষমতা পরিবর্তন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় মাচাদোকে রাখা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ২০১৫ সালে নির্বাচিত বিরোধী-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আইনসভা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কিছু ব্যক্তি মনে করেন, মাচাদোর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা ভালোই হতে পারে। তাদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমান ব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে দেওয়ার চাপও কমে আসবে। এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সীমিত বেতন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
তবে মাচাদোর কিছু মিত্র আশঙ্কা করছেন, তিনি যত বেশি সময় ভেনেজুয়েলার বাইরে থাকবেন, তার আন্দোলন তত বেশি গতি হারাতে পারে।
মাচাদো বলেন, ‘আমিও নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করেছি। অবশ্যই আমি অনেক আগেই ফিরে আসতে চেয়েছিলাম, আর সবাই তা জানে।’
এখন আপাতত নিজেকে আড়ালে রাখছেন তিনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানামা সিটির ঐতিহাসিক কাসকো ভিয়েহোর পাথর বসানো রাস্তায় তার সঙ্গে হাঁটলে এর কারণ বোঝা যায়। চত্বরে পালেতাস বিক্রি করা বিক্রেতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলের অতিথি, সবাই তাকে সঙ্গে সঙ্গে চিনে ফেলছেন। অনেকে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে ও তাকে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি এমনই এক সফরে একজন তাকে বলেন, ‘পরেরবার আপনাকে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মিরাফ্লোরেসে দেখতে চাই।’ এরপর প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কবে ফিরছেন?’